একজন নারী ও একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দক্ষ কমিশনারসহ সর্বোচ্চ পাঁচ কমিশনার নিয়ে নতুন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠনের এবং তাদের ক্ষমতা বাড়ানোর সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এতে এনফোর্সমেন্ট ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা এবং মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অনুমোদনে এ অধ্যাদেশ কার্যকর হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানসহ পাঁচ কমিশনার নিয়োগের ধারা (২০০৪ সালের ৫ নং আইন, ধারা ৫) সংশোধন করা হয়েছে। কমিশনে একজন নারী ও একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দক্ষ কমিশনার থাকবেন। রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্যে একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন।
আইনের ৭ নং ধারায় কমিশনার নিয়োগের বাছাই কমিটির কাঠামোও পরিবর্তন হয়েছে। ‘সার্চ কমিটি’কে বদলে ‘যাচাই-বাছাই কমিটি’ করা হয়েছে। এতে প্রধান বিচারপতি বাদ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারক কমিটির সভাপতি হবেন। কমিটির সদস্য হবেন:
- প্রধান বিচারপতির মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক
- বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান
- জাতীয় সংসদের স্পিকার কর্তৃক সরকার দল ও প্রধান বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে মনোনীত দুই সংসদ সদস্য (একজন সরকার দলীয়, অন্যজন বিরোধী দলীয়)
জাতীয় সংসদ ভেঙে গেলে সংসদ ছাড়াই বাছাই কমিটি গঠন করা যাবে। অধ্যাদেশে দুদকের কার্যাবলিতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আইন অনুযায়ী এনফোর্সমেন্ট ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধে দুদকের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ঘুষ, দুর্নীতি, দলিল জালকরণ, প্রতারণা, চোরাচালান, মুদ্রা পাচার, কর ও পুঁজিবাজার সম্পর্কিত অপরাধ দুদকের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে শুধু ঘুষ ও দুর্নীতি সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং অপরাধই তফসিলে ছিল।
২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে প্রধান করে আট সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কমিশনের প্রতিবেদন দাখিল হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি সরকার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে সংস্থার সংস্কারে ৪৭টি সুপারিশ করা হয়। যার মধ্যে দুটি মূল দিক ছিল:
- দুদককে কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠন
- ক্ষমতার অপব্যবহার ও আইন পরিবর্তনসহ ১০টি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ
তবে ২৮ নভেম্বর দুদক অধ্যাদেশ ২০২৫-এ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়ায় টিআইবি গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে।

