অন্তর্বর্তী সরকার অনুমোদন দিয়েছে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এটি কার্যকর হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সকল ইমার্জিং তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই তথ্য জানায়। প্রেস উইং জানিয়েছে, বিদ্যমান ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ আরও শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটি অনুমোদিত হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এটি কার্যকর হয়।
এ অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো জনগণকে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া। এছাড়া বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রধান পরিবর্তন ও সংযোজন:
১. তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ: ই-সিগারেট, ENDS (Electronic Nicotine Delivery System), HTP (Heated Tobacco Product), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্য এখন তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ধরা হবে। সরকার চাইলে কোনো নতুন পণ্যকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা এবং ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।
২. পাবলিক প্লেসে নিষেধাজ্ঞা: সব পাবলিক স্থানে ও পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘন করলে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০০ টাকা হবে।
৩. বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ: প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ও OTT প্ল্যাটফর্মে তামাকের কোনো বিজ্ঞাপন, বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন ও প্রচারণা, CSR কার্যক্রমে কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার, কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির নামে আর্থিক সহায়তা করা নিষিদ্ধ।
৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে বিক্রয় নিষিদ্ধ: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটার এলাকা ভেতরে তামাক বিক্রি করা যাবে না।
৫. ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ: উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। শাস্তি সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা।
৬. কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি নিষিদ্ধ: উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পূর্ববর্তী Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল করা হয়েছে।
৭. আসক্তিমূলক দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ: তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
৮. স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং: প্যাকেটের ৭৫% জায়গা রঙিন ছবি ও সতর্কবাণী দিয়ে পূর্ণ করতে হবে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া বিক্রয় নিষিদ্ধ।
৯. শাস্তি ও প্রয়োগ জোরদার: জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি, কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান অন্তর্ভুক্ত।

