সদ্য বিদায় নেওয়া ২০২৫ সাল সুপ্রিম কোর্ট ও সামগ্রিক বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই বছরে এমন কিছু সিদ্ধান্ত, রায় ও কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে, যা কয়েক দশক ধরে আলোচনা হলেও বাস্তবে কার্যকর হয়নি।
দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের অপেক্ষার পর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের চূড়ান্ত রূপ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এটি বিচার বিভাগের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক অর্জন হিসেবে ধরা হচ্ছে। সাল জুড়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হয়। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনী বাতিল করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক পুনরুদ্ধার করা হয়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ বাতিল হয়।
একই বছরে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় এটিএম আজহারুল ইসলামের খালাস দেওয়া হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার খালাস হয়। মেজর সিনহা হত্যা মামলায় দণ্ড বহাল রাখা হয়। আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। একের পর এক আলোচিত ও যুগান্তকারী রায় দেশের মানুষকে আলোচনায় রাখে।
২০২৫ সালে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এসব নানাবিধ কারণে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, সুপ্রিম কোর্ট থাকবে, ২০২৫ সালের ঘটনা মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল:
বিদায়ী বছরের ২০ নভেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বাতিল রায়কে অবৈধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর ছয় বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। রায় ঘোষণার সময় আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা আপিল বিভাগের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এজলাস কক্ষ কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।
রায়ের মাধ্যমে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলেও, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকার অধীনে। চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি ও ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় দিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের বিদায়:
গত ২৭ ডিসেম্বর অবসরে গেলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের আলোচিত প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রাজপথে ছাত্র-জনতার দাবির প্রেক্ষিতে বিচার বিভাগের ইতিহাসে তিনিই প্রথম হাইকোর্টের বিচারপতি থেকে সরাসরি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। দায়িত্বপালনকালীন সময়ে তিনি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আইনাঙ্গনের মানুষেরা মনে রাখবেন, ২০২৫ সাল তাঁর বিদায়ের বছর হিসেবেও ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জামায়াতে ইসলামের নিবন্ধন ফিরিয়ে দিলো সুপ্রিম কোর্ট:
বিদায়ী বছরের ১ জুন দেশের সর্বোচ্চ আদালত জামায়াতে ইসলামের রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছে। একই সঙ্গে জামায়াতের নিবন্ধন ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির জন্য ইসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের করা আবেদনের শুনানি শেষে ঐতিহাসিক এ রায় দেন। এই রায়ের ফলে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী আবারও তার নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পায়।
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী বাতিল:
২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ৭২-এর সংবিধানের মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ বহাল রাখার রায় দেয় আদালত। এই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, যেমন—কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব পুরোপুরি সুপ্রিম কোর্টের হাতে ফিরে এসেছে।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে তিন মাসের মধ্যে একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৭ সালে তৈরি শৃঙ্খলাবিধিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, “এই রায়ের ফলে বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সম্পূর্ণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ফিরে এসেছে। আর কোনো রকম চাপ বা ভয় ছাড়াই বিচারকরা স্বাধীনভাবে রায় দিতে পারবেন। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়।”
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের যাত্রা শুরু:
বিদায়ী বছরে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় কার্যক্রম শুরু করেছে। গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ উদ্বোধন করেন এই পৃথক সচিবালয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে ভবিষ্যৎ সরকারের সমর্থন প্রয়োজন। স্বাধীন বিচার বিভাগের সফলতা বা ব্যর্থতা— দুটিই আমাদের মেনে চলতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই পৃথক সচিবালয় বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।”
আইন উপদেষ্টারা জানান, এখন থেকে বিচার বিভাগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। এর আগে, ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনের প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তার আগে ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবনা অনুসারে তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়েছিল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালাস পেলেন খালেদা জিয়া:
বিদায়ী বছরের ৪ নভেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস দেওয়ার আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। গত ১৫ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ সর্বসম্মতিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ অন্যান্য আসামিদের খালাস দেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করে, “মামলার আপিলসমূহ উদ্দেশ্যমূলকভাবে গঠন করা হয়েছে, যা আইনের স্পষ্ট অপব্যবহার এবং দুরভিসন্ধিমূলক মামলার সমতুল্য।” এছাড়া বলা হয়, “রায়টি অন্যান্য দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যারা এই মামলায় আপিল করেননি।” এ রায়ের ফলে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের পূর্বের রায় বাতিল হয়। এর কারণে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ অন্য আসামিরা আপিল না করেও সাজা থেকে খালাস পান।
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমান খালাস:
বিদায়ী বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাসের হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নতুন করে তদন্ত করার নির্দেশনা বাতিল করে। আদালত জানিয়েছে, মামলার পুনঃতদন্ত করা হবে কি না, তা সরকারের বিষয়।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর পাঁচ বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। আদালতে আসামি পক্ষের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস:
বিদায়ী বছরের ২৭ মে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দেয় আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে সর্বোচ্চ আদালত এ রায় দেন।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য ছয় বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি মো. আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। সাতজনই সর্বসম্মতিক্রমে রায় দেন।
রায়ে আপিল বিভাগ অবিলম্বে এটিএম আজহারুল ইসলামকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। এটি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে আপিল বিভাগের রায়ে খালাস পাওয়া ঘটনা।
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল:
বিদায়ী বছরের ১৬ মার্চ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামির যাবজ্জীবন রায় হাইকোর্ট বহাল রাখে। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—
-
বুয়েট ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই, ১৩তম ব্যাচ)
-
সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ)
-
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল, ১৫তম ব্যাচ)
-
সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস, ১৬তম ব্যাচ)
-
ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন, ১৫তম ব্যাচ)
-
উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল, ১৬তম ব্যাচ)
-
সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ)
-
সদস্য মোজাহিদুর রহমান (ইইই, ১৬তম ব্যাচ)
-
সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই, ১৭তম ব্যাচ)
-
সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই, ১৭তম ব্যাচ)
-
শামীম বিল্লাহ (মেরিন, ১৭তম ব্যাচ)
-
মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই, ১৭তম ব্যাচ)
-
খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ)
-
মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই, ১৬তম ব্যাচ)
-
এস এম নাজমুস সাদাত (এমই, ১৭তম ব্যাচ)
-
মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই, ১৭তম ব্যাচ)
-
মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোর্সেস, ১৬তম ব্যাচ)
-
শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল)
-
উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)
-
এসএম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামি হলেন—
- বুয়েট ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিই, ১৪তম ব্যাচ)
- গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, ৩য় বর্ষ)
- আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং)
- সদস্য আকাশ হোসেন (সিই, ১৬তম ব্যাচ)
- মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭তম ব্যাচ)
বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজ করতে হাইকোর্টের নির্দেশ:
বিদায়ী বছরের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিয়ে ও তালাকের নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করার জন্য। আদালত সব নাগরিক যাতে এই ডিজিটাল সুবিধা ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও অ্যাডভোকেট তানজিলা রহমান। রিট ২০২১ সালের ৪ মার্চ ভুক্তভোগী চারজনের পক্ষে দায়ের করা হয়। রিটে বলা হয়, প্রতারণা ঠেকানো এবং পারিবারিক সম্মান রক্ষায় বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা জরুরি।
এর আগে ২০২১ সালের ২২ মার্চ বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রুল জারি করেন। রুলে কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট তৈরি না হলে কেন বিয়ে ও তালাকের ঘটনা ডিজিটালভাবে নিবন্ধন করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানির পরে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর ও ইসির সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের রায়:
বিদায়ী বছরের ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্ট দ্বিধা-বিভক্ত রায় দেন।
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন। অন্যদিকে জুনিয়র বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করে চুক্তি প্রক্রিয়া বৈধ ঘোষণা করেন। দুই বিচারপতির হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক পৃথকভাবে রায় দেন। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ গঠন করেছেন।
একই বছরের ১০ ডিসেম্বর বাগেরহাটের চারটি আসন নিয়ে হাইকোর্ট রায় দেয়। নির্বাচন কমিশনের গেজেট অবৈধ ঘোষণা করা হয়, যা একটি আসন কমিয়ে তিনটি করা হয়েছিল। আপিল বিভাগ রায় বহাল রাখে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় অনুমোদন করেন।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের লিভ টু আপিল খারিজ করে এ রায় দেন আপিল বিভাগ। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী। ইসির পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।
এর আগে ৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট জারি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর নির্বাচন কমিশন আপিল করে।

