বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির মৌখিক পরীক্ষা গত বছরের ১৫ নভেম্বর শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর শেষ হয়েছে। কিন্তু দেড় মাস পার হলেও পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি। এতে হতাশায় পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
গত বছরের ২৫ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। এতে ৭ হাজার ৯১৭ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। এর আগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৮ জুন এবং এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৫ এপ্রিল। আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের প্রায় ১০ মাস ধরে বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা ও ফলাফলের অপেক্ষা করতে হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার (জেলা ও দায়রা জজ) মৌখিক পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এতে রোল নম্বর অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিন ও সময় নির্ধারিত হয়েছিল।
বার কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত হওয়ার সময় নিজস্ব প্রবেশপত্র, বার কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন কার্ড, সব অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশিটের মূল কপি এবং ৫টি দেওয়ানি ও ৫টি ফৌজদারি মামলার নোটবুক বা কেস ডায়েরি সঙ্গে নিয়ে আসতে হয়। অথচ দেড় মাস পার হলেও পরীক্ষার্থীরা ফল পাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলেন, “দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে ফল প্রকাশ না হওয়ায় আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আশা করেছিলাম নতুন বছরের শুরুতেই কোট-টাই ও গাউন পরে আদালতে কাজ শুরু করব কিন্তু এখনো সেই সুযোগ পাইনি। নির্বাচনের আগে আমরা চাই ফল প্রকাশ হোক।” পরীক্ষার্থীরা আরও জানান, ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা না হলে শিগগিরই আন্দোলনের ডাক দেবেন।
ফল প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, “এটা নির্বাচনের পর হবে। ইলেকশন সামনে থাকায় এখন এটি সম্ভব নয়।” বার কাউন্সিলের সদস্য এ এস এম বদরুল আনোয়ার বলেন, “ফল প্রকাশ আমাদের এখতিয়ারে নেই। এটি জুডিশিয়াল কাউন্সিলের দায়িত্ব। তারা ফল প্রস্তুত করে দিলে আমরা প্রকাশ করি।”
সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মাইনুল আহসান বলেন, “রেজাল্ট এক্সামিনেশন কমিটি প্রস্তুত করে। এটি বিচারপতিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। গত সপ্তাহে প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখনো হয়নি। আমার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।” অন্য সদস্য মো. শফিকুল বলেন, “লিখিত পরীক্ষার রিভিউ নিয়ে কিছু ঝামেলা ছিল। তবে নির্বাচনের আগে ফল প্রকাশ হবে।” এনায়েত হোসেন বাচ্চু জানান, “অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত। এই কারণে ফল প্রকাশ দেরি হয়েছে।”

