বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সংঘটিত পৃথক দুই হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত পৃথক দুই মামলায় ৬৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে ৪১ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “দুই মামলায় ৬৪ আসামির চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। পরে পলাতক ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মো. সবুজ হত্যা মামলায় ২১ জনের, আর মো. হোসেন হত্যা মামলায় ২০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।”
হোসেন হত্যা মামলা
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় তার মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মো. আকরামুজ্জামান, মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক, তদন্ত শেষে গত ২৩ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেন। মামলায় ২০ জন পলাতক রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন ইতিমধ্যে কারাগারে। ১০ জন জামিনে রয়েছেন।
সবুজ হত্যা মামলা
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরের ময়ূর ভিলার সামনে ২২ বছর বয়সী সিএনজি চালক মো. সবুজ গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মো. মাজহারুল ইসলাম, মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক, আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার মধ্যে ২১ জন পলাতক রয়েছেন।
প্রাথমিক এজাহারে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম ছিল না। তবে তদন্ত শেষে তাদেরও যুক্ত করে চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়।

