রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করলে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
একই মামলায় শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিককে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকেও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত তার প্লট বরাদ্দও বাতিল করেছেন।
শেখ রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন আদালত। অনাদায়ে তাকেও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, পৃথক দুই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৩৬ হলেও ব্যক্তি হিসেবে তারা ২২ জন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সকল সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করি দুই মামলায়ই সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত হবে।”
মামলার বিবরণে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। ওই মামলায় শেখ হাসিনা, টিউলিপসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
অন্যদিকে একই দিনে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। এই মামলাতেও শেখ হাসিনা, টিউলিপসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা শহরের বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকার তথ্য গোপন করে পরস্পর যোগসাজশে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তায় ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। শেখ হাসিনা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করেছেন এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন। এতে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের ছাড়াও মামলায় অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।
রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলামসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও মামলার আসামি ছিলেন।
গত ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের এবং ১৮ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের মামলার যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয়। এরপর আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে পূর্বাচলের প্লট দুর্নীতির চার মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই মামলাগুলোতে অন্য আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

