নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, ভয়মুক্ত পরিবেশ ছাড়া কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহম্মদ মিসবাহ উদ্দিন (আল-মিসবাহ) গত মঙ্গলবার, (৩ ফেব্রুয়ারি) এই রিট আবেদন দায়ের করেন। আবেদনে নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বৈধ নির্বাচনী প্রচারণাকালে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারীরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে গিয়ে হামলা, হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার মধ্যে হিজাব পরিহিত নারীদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও উঠে এসেছে।
আবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনার বহু তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দায়িত্ব পালনে ঘাটতির চিত্র ফুটে ওঠে।
রিটে আরও দাবি করা হয়, নারীদের ওপর এ ধরনের হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের একাধিক মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এর মধ্যে রয়েছে বৈষম্য নিষিদ্ধকরণ, জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, চলাচলের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সমিতি করার অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহ।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করার যে সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলেও রিটে অভিযোগ করা হয়।
রিটকারী আইনজীবী মুহম্মদ মিসবাহ উদ্দিন বলেন, নারীদের নিরাপদ ও ভয়মুক্ত অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নির্বাচনই বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের সাংবিধানিক অধিকার, যা সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তিনি জানান, আগামী রোববার বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

