Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice Sat, Feb 14, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » সংবিধান অনুযায়ী নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া
    আইন আদালত

    সংবিধান অনুযায়ী নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া

    মনিরুজ্জামানFebruary 14, 2026Updated:February 14, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে আয়োজিত হয়েছে ‘জুলাই সনদ’ নামে পরিচিত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত জাতীয় গণভোট। এই দ্বৈত আয়োজন নির্বাচনকে শুধু সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়েও সরাসরি জনমত নেওয়ার একটি পর্বে রূপ দিয়েছে।

    প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের মিত্র দলগুলো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি এখন স্পষ্ট। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জোটভিত্তিক জটিল সমীকরণের প্রয়োজন পড়ছে না—এমনটাই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে।

    বর্তমানে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে—কবে এবং কীভাবে গঠিত হবে নতুন সরকার। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতৃত্বেই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিবৃতিতেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নবনির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

    এই সময়সীমা ইঙ্গিত করছে, প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক রূপান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক দায়িত্বপালন নয়; এটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনাপর্ব। এখন নজর ১৭–১৮ ফেব্রুয়ারির দিকে—সেখানেই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে দেশের পরবর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

    গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়ার আইনগত সূক্ষ্মতা:

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন শুরু হয়েছে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ধাপ। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয়, নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনকে তা দ্রুততম সময়ে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত করতে হবে। এই গেজেট প্রকাশই পরবর্তী সব কার্যক্রমের ভিত্তি।

    নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ আইনগতভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য হন না। অর্থাৎ শপথই একজন নির্বাচিত প্রার্থীর সাংবিধানিক বৈধতার চূড়ান্ত স্বীকৃতি। এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে নির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের নাম এবং গণভোটের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করেছে।

    এই পরিস্থিতিতে সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শপথ গ্রহণ। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যদি শপথ সম্পন্ন হয়, তাহলে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু করার পথ উন্মুক্ত হবে। একই সঙ্গে গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ হওয়ায় সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গেও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগোবে। গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী রূপান্তর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এখন নজর শপথ গ্রহণের দিকে, কারণ সেই মুহূর্ত থেকেই কার্যকর হবে নতুন সংসদের আইনগত অবস্থান।

    কে পড়াবেন শপথ?

    নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া এবার অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। সাধারণত বিদ্যমান সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারই শপথ পাঠ করান কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা হওয়ায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতি প্রয়োগ সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ দুটি বিকল্প পথ নির্ধারণ করেছে:

    • রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতি—নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে পারেন।

    • যদি প্রথম তিন দিনের মধ্যে শপথ আয়োজন সম্ভব না হয়, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন।

    অর্থাৎ, শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সংবিধান অনুযায়ী নিশ্চিত করা হয়েছে, এমনকি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শূন্য থাকলেও। এই বিধান নিশ্চিত করে যে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সময়মতো আইনগতভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন এবং নতুন সংসদ কার্যকরভাবে কাজ শুরু করতে পারবে।

    সংবিধান ১৪৮-এর নির্দেশনা অনুযায়ী:

    সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।”

    এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, শপথ গ্রহণের কোনো বিলম্ব থাকবে না। যদি কোনো কারণে প্রথম নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হন, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে তা পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও সংসদ সদস্যদের আইনগত স্বীকৃতি নিশ্চিত হয়।

    এই প্রক্রিয়া সংক্রান্ত মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সরকার নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। তিনি বলেন, “এটা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটি হলো রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাতে পারেন, উদাহরণ হিসেবে আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। আর যদি এটি সম্ভব না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ গ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে তিন দিনের অপেক্ষা করতে হবে, কিন্তু আমরা চাই না। আমরা চাই নির্বাচন হওয়ার পর দ্রুত শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হোক।”

    অর্থাৎ, সংবিধান ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির সমন্বয়ে শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া নিশ্চিতভাবে সম্পন্ন হবে এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন।

    নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সরকার গঠনের প্রক্রিয়া:

    নবনির্বাচিত সংসদে সরকার গঠন ও সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখন স্পষ্ট হয়ে আসছে। সংবিধানের ৫৬ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সেই সদস্যকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন যিনি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে প্রতীয়মান হবেন। নির্বাচনে এককভাবে ২০০-এর বেশি আসন পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে।

    ঐক্যভিত্তিক জাতীয় সরকারের রূপরেখা:

    নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় সত্ত্বেও বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে না। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করেছেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনকারী দল ও ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ‘ঐকমত্যের জাতীয় সরকার’ গঠন হবে। এই নীতি দলের চেয়ারম্যানও প্রতিফলিত করেছেন, যদিও বিস্তারিত নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করা হয়নি। নতুন সরকারের মূল ভিত্তি হবে বিএনপির ঘোষিত ‘৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব’। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো হলো:

    • প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য: এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
    • দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করা হবে।
    • সংসদীয় সংস্কার: ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ দেওয়া হবে বিরোধী দল থেকে।
    • বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন: সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা হবে।

    এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে নতুন সরকার শুধু রাজনৈতিক দিক থেকে নয়, প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক দিক থেকেও স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়। নির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্য এবং গণভোটের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশ হওয়ায় এখন শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।

    মন্ত্রিসভা গঠন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি:

    নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখন আনুষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা গঠন হবে। রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেবেন। মন্ত্রিসভার অন্তত নয়-দশমাংশ সদস্য সংসদ থেকে নির্বাচিত হতে হবে, বাকি এক-দশমাংশ ‘টেকনোক্র্যাট’ হিসেবে অনির্বাচিতভাবে নিয়োগ দেওয়া যাবে।

    বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নতুন মন্ত্রীদের জন্য দাপ্তরিক প্রস্তুতি, গাড়ির ব্যবস্থা ও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে শুরু করেছে।

    চূড়ান্ত কর্মসূচি: সরকারের উচ্চপদস্থ সূত্র এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে:

    • ১৫–১৬ ফেব্রুয়ারি: নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ।
    • ১৭–১৮ ফেব্রুয়ারি: প্রধানমন্ত্রীর শপথ এবং নতুন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ।

    আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আগামী ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই নির্বাচিত সরকারের কাছে পূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরেরও বেশি শাসনকাল সমাপ্ত হবে এবং বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় প্রবেশ করবে। নির্বাচন-পরবর্তী এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করছে যে নতুন সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

    জনমতের রায় বাস্তবায়ন:

    নির্বাচনের সঙ্গে সংগঠিত ‘জুলাই সনদ’ জাতীয় গণভোট দেশের মানুষ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। এর ফলে নতুন সংসদ সংবিধান সংস্কারে বাধ্য থাকবে।

    জুলাই সনদ (বা জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫) অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ শুধুমাত্র নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবে না, বরং প্রথম ১৮০ থেকে ২৭০ কার্যদিবস একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ হিসেবে কার্যকর হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হবে।

    নেতৃত্ব এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির সঙ্গে এই সংস্কার নিশ্চিত করবে যে, দেশের সংবিধান আরও গণতান্ত্রিক ও সময়োপযোগী হবে। গণভোটের প্রভাবই নতুন সংসদের কাজকর্মকে নির্দেশ করবে এবং শাসন ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনের পথ সুগম করবে।

    গণভোটের বিষয়:

    নতুন সংসদ ও সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া এখন স্পষ্ট রূপ পেয়েছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী, আগামী সংসদ কার্যক্রমের মূল কাঠামো নিম্নরূপ:

    ক. সংবিধানানুযায়ী প্রতিষ্ঠান ও তত্ত্বাবধান: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে। এর ফলে সংবিধান সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হবে।

    খ. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ও উচ্চকক্ষের অনুমোদন: নতুন জাতীয় সংসদ দুই কক্ষ বিশিষ্ট হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে, যা সংস্কারের প্রক্রিয়াকে আরো গণতান্ত্রিক ও সমন্বিত করবে।

    গ. গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও বিধান বাস্তবায়ন: সংসদে নারী প্রতিনিধি সংখ্যা বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা—সহ তফসিলে বর্ণিত ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

    ঘ. রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনুসারে সংস্কার: জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্য এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সংহত হবে।

    রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত: জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হলেও সব প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পূর্ণ ঐকমত্য ছিল না। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভিন্নমত রেকর্ড করা হয়েছে।

    বিএনপির আপত্তি:
    বিএনপি কিছু ধারায় ভিন্নমত পোষণ করেছে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করে রাষ্ট্রপতির এককভাবে নিয়োগ প্রদানের বিষয়ে। এছাড়া উচ্চকক্ষ গঠন প্রক্রিয়া, ন্যায়পাল ও অন্যান্য সাংবিধানিক পদে নিয়োগের কমিটির কাঠামো নিয়েও দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে।

    জামায়াত ও অন্যান্য দল: আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি এবং উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন সংক্রান্ত কিছু ধারায় জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের নিজস্ব প্রস্তাব ছিল। এই ভিন্নমতগুলো নির্দেশ করছে যে, সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় এখনো কিছু সমন্বয় এবং সমঝোতার প্রয়োজন আছে।

    যদিও জুলাই সনদ দেশের সংবিধান সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণ করেছে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত দেখাচ্ছে যে বাস্তবায়ন পর্যায়ে শক্তিশালী সমন্বয় এবং সংলাপ অপরিহার্য। নির্বাচিত সংসদকে এই ভিন্নমতগুলোর সমাধান করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, যাতে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    গাজা: মানবিক সংকট নয়, পরিকল্পিত গণহত্যা

    February 14, 2026
    আইন আদালত

     গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতেছে, ক্ষমতা ও নীতিতে আসবে যেসব পরিবর্তন

    February 14, 2026
    বাণিজ্য

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা পোশাক রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত খুলছে

    February 14, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইরাকে নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ, শাস্তির ভয় সবার মনে

    আন্তর্জাতিক August 4, 2025

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক October 30, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত January 13, 2025

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি October 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.