সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গে তিনি শপথ নেন। ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পেশাজীবনের শুরুটা ছিল আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই করতে করতেই নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের আস্থা অর্জন করেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।
আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকা থেকে শুরু করে বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার মধ্য দিয়ে আসাদুজ্জামান মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। বহু বছর আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কাজের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে দেশের আইনি পরিমণ্ডলে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সেই পেশাগত অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশ নেন। নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রবেশ এবং অবশেষে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া—এ সবই তাঁর দীর্ঘ সময়ের আইনি ও মানবাধিকারভিত্তিক কার্যক্রমের ফল।
আইনজীবী হিসেবে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাফল্য অর্জন করেছেন। সংবিধান, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রীয় আইনের জটিল ব্যাখ্যায় পারদর্শিতার কারণে সহকর্মীদের মধ্যেও আলাদা মর্যাদা পেয়েছেন। আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তাঁর বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য ও আইনি কাঠামোর সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা ব্যাপক আলোচিত হয়।
দীর্ঘদিন সুপ্রিম কোর্টকেন্দ্রিক আইনচর্চার অভিজ্ঞতা তাঁকে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা বোঝার সুযোগ দিয়েছে। এই জ্ঞান পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জীবন ও শিক্ষাজীবন:
১৯৭১ সালের ৩১ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বারোইপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর পিতা শেখ মো. ইসরাইল হোসেন এবং মাতা বেগম রোকেয়া। দুই কন্যাসন্তানের জনক তিনি। ১৯৮৭ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে এইচএসসি পাসের পর ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি আইন পেশায় প্রবেশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময় (১৯৮৯–১৯৯৪) তিনি জাসদ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৯৪ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–তে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক মাইলফলক:
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি বিএনপির মনোনয়নে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পদত্যাগ করে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। ঝিনাইদহ-১ আসনে তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–সমর্থিত প্রার্থী আবু সালেহ মোহাম্মদ মতিউর রহমান পান ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট।
হলফনামা অনুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯ কোটি ৮৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬৫ টাকা। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সরাসরি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া মো. আসাদুজ্জামানের রাজনৈতিক জীবন এবং দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতা দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

