সরকার গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ‘বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০’ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে। গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার ও অপচয় রোধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশটি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ‘‘সংসদ ভঙ্গ অবস্থায় থাকায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।’’
নতুন সংজ্ঞা সংযোজন: সংশোধিত আইনে ‘প্ররোচনা’ শব্দের সংজ্ঞা যোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘‘কাউকে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করতে উৎসাহিত, প্রলুব্ধ বা সহায়তা করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’’
অবৈধ ব্যবহারে কঠোর শাস্তি:
নতুন আইনে সরবরাহ লাইন থেকে গ্যাস চুরি, অনুমোদিত সংখ্যার চুলার বেশি ব্যবহার এবং মিটারযুক্ত সংযোগে নির্ধারিত লোড অতিক্রম করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবন বা ফ্ল্যাটের মালিক, গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার কেউ যদি অবৈধ ব্যবহারে সহায়তা বা প্ররোচনা দেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাস্তির হার নির্ধারণ:
-
গৃহস্থালি গ্রাহক: প্রথমবারের অপরাধে সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদণ্ড বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা, পুনরাবৃত্তিতে ৩–৬ মাস কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা।
-
বাণিজ্যিক গ্রাহক: প্রথমবার সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ৪০ হাজার টাকা জরিমানা, পুনরাবৃত্তিতে ৬–১২ মাস কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা।
-
শিল্প, সিএনজি স্টেশন, ক্যাপটিভ পাওয়ার ও চা বাগান: প্রথমবার সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা, পুনরাবৃত্তিতে ১–৩ বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা জরিমানা।
-
বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনকারী গ্রাহক: প্রথমবার সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ৪ লাখ টাকা জরিমানা, পুনরাবৃত্তিতে ২–৫ বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা।
মালিক ও ঠিকাদারের দায়:
অবৈধ গ্যাস ব্যবহার নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার মালিকদেরও জরিমানা করা হবে। অবৈধ সংযোগে জড়িত ঠিকাদারদের কালো তালিকাভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। গ্যাস বিতরণে জড়িত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশন সংক্রান্ত বিধান বাতিল:
সংশোধিত আইনে গ্যাস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের সঙ্গে আলোচনার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে গ্যাস চুরি ও অপচয় কমবে এবং ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে।

