চেক ডিজঅনার (এন.আই এ্যাক্ট ১৩৮) মামলায় প্রথম ধাপ হলো আসামিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো। তবে একই চেকের জন্য দুইবার নোটিশ পাঠানো খুবই সংবেদনশীল বিষয়। আসলে মামলার ফলাফল অনেকাংশেই নির্ভর করে দ্বিতীয় নোটিশ কেন এবং কীভাবে পাঠানো হয়েছে তার ওপর।
আইন অনুযায়ী, চেক ডিজঅনার হওয়ার পর নোটিশ দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করার সময় শুরু হয়। দুইটি নোটিশের ক্ষেত্রে মামলার বৈধতা তিনটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে:
১. নতুন ডিজঅনার স্লিপের মাধ্যমে দ্বিতীয় নোটিশ:
যদি প্রথম নোটিশ দেওয়ার পর মামলা না করে চেকটি পুনরায় ব্যাংকে জমা দেওয়া হয় এবং নতুন ডিজঅনার স্লিপ সংগ্রহের পর দ্বিতীয় নোটিশ পাঠানো হয়, তাহলে মামলা সম্পূর্ণ আইনসঙ্গত। এই ক্ষেত্রে নতুন ‘কজ অব একশন’ তৈরি হয়, যা আদালত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
২. একই ডিজঅনার স্লিপের ওপর দ্বিতীয় নোটিশ:
একই স্লিপ ব্যবহার করে দ্বিতীয়বার নোটিশ পাঠালে মামলার বৈধতার ঝুঁকি থাকে। কারণ প্রথম নোটিশের ৩০ দিনের মধ্যে মামলা না করলে সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। দ্বিতীয় নোটিশ এই সময় বৃদ্ধি করতে পারবে না, তাই মামলা খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৩. প্রথম নোটিশে ভুল বা ত্রুটি থাকলে:
যদি প্রথম নোটিশটি ভুল ঠিকানায় পাঠানো হয়, অথবা আইনি ত্রুটি থাকে—যেমন ভুল অংক বা রেফারেন্স—তাহলে আদালত দ্বিতীয় নোটিশকে কার্যকর বিবেচনা করতে পারে। তবে এই ক্ষেত্রে প্রমাণ দেখাতে হবে কেন প্রথম নোটিশ কার্যকর হয়নি।
আইনি রেফারেন্স ও গুরুত্বপূর্ণ রায়:
-
সৈয়দ মোজাফফর হোসেন বনাম রাষ্ট্র (৫১ ডিএলআর, এডি, পৃষ্ঠা ২০৩):
আপিল বিভাগ স্পষ্ট করেছে, একবার নোটিশ দেওয়া হয়ে গেলে সেই নোটিশের ভিত্তিতে মামলা না করার পর দ্বিতীয় নোটিশ আইনগতভাবে কার্যকর হবে না। -
সদানন্দন ভদন বনাম মাধবন সুনীল কুমার (এআইআর ১৯৯৮, সুপ্রিম কোর্ট, ৩০৪০):
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এই রায় বাংলাদেশে এন.আই এ্যাক্ট মামলায় প্রায়শই অনুসরণ করা হয়। রায়ের মূল বক্তব্য—একটি চেকের বিরুদ্ধে একবার নোটিশ পাঠানো হলে একটি মাত্র ‘কজ অব একশন’ তৈরি হয়। দ্বিতীয়বার নোটিশ পাঠিয়ে নতুন সময়সীমা শুরু করা যায় না।
আসামীপক্ষের দু’টি আইনি পথ:
১. ডিসচার্জ পিটিশন:
যুগ্ম জেলা জজ বা দায়রা আদালতে অভিযোগ গঠনের সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫(সি) ধারায় আবেদন করতে পারেন। যুক্তি হবে, প্রথম নোটিশের পর নির্ধারিত সময়ে মামলা না হওয়ায় দ্বিতীয় নোটিশের মাধ্যমে মামলা তামাদি হয়েছে।
২. কোয়াশমেন্ট:
যদি ট্রায়াল কোর্ট আবেদন গ্রহণ না করে, তবে হাইকোর্টে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারায় মামলা বাতিল বা ‘কোয়াশ’ করার জন্য আবেদন করা যায়। হাইকোর্ট সাধারণত টেকনিক্যাল ত্রুটি থাকলে মামলা বাতিল করে দেন।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
- প্রথম নোটিশের কপি ও গ্রহণের তারিখের প্রমাণ (এডি কার্ড)
- দ্বিতীয় নোটিশের কপি
- দুই নোটিশের মধ্যবর্তী সময়ের হিসাব
লেখক: সিরাজ প্রামাণিক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

