দুর্নীতির অভিযোগে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুর রহমান খান ও তার স্ত্রী নাহিদা ইসলামের মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের করা পৃথক দু’টি আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, আতিকুর রহমানের নামে বনশ্রী ও রামপুরা এলাকায় থাকা দু’টি ফ্ল্যাট ও জমি এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জে অবস্থিত প্রায় ৯৫২ শতাংশ জমি ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী নাহিদা ইসলাম (নিপা)-এর নামে বাড্ডা এলাকায় থাকা একটি ছয়তলা বাড়ি ও সাড়ে তিন কাঠা জমিও ক্রোকের আওতায় আনা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মানসী বিশ্বাস আদালতে এসব সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আতিকুর রহমান তার জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেননি। এছাড়া জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন ও নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তার নামে থাকা ৪৭টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকার লেনদেনের উৎসও গোপন করা হয়েছে। এসব অর্থ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার মালিকানাধীন সম্পত্তি অন্যের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। যদি এসব সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মামলার বিচার শেষে অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ কারণে তদন্তের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলো ক্রোক করা জরুরি বলে দুদক আদালতে উল্লেখ করে। একইভাবে নাহিদা ইসলামের নামে থাকা সম্পত্তিগুলো যাতে স্থানান্তর করা না যায়, সেজন্য সেগুলোও ক্রোকের আবেদন করা হয় এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।

