বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এ ২৯ জনের ‘অবৈধভাবে’ নিয়োগের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই নিয়োগপ্রাপ্তদের পদোন্নতির বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ৫ মার্চ এ আদেশ দেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ-এর বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
সোমবার রুলের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান রিটকারীদের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান।
আইনজীবী জানান, বিগত সরকারের আমলে বিটিআরসিতে ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে রাজস্ব খাতের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি অডিট অধিদপ্তরের এক অডিট প্রতিবেদনে এসব নিয়োগে চাকরিবিধি, নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, অডিট অধিদপ্তর বারবার ব্যাখ্যা চাইলেও বিটিআরসির পক্ষ থেকে সন্তোষজনক জবাব দেওয়া হয়নি। পরে গত বছরের ১৬ নভেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সংশ্লিষ্ট নিয়োগের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-এর মতামতসহ জবাব দিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানায়। তবে সে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টেলিযোগাযোগ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে গঠিত টাস্কফোর্সের শ্বেতপত্রেও ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে অবৈধভাবে রাজস্ব খাতে নিয়োগের বিষয়টি উঠে আসে। এর ভিত্তিতে গত ১৪ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবারও বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে উপ-পরিচালক পদে কর্মরতদের পরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য গত ৩ নভেম্বর বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) গঠন করা হয় এবং দ্রুত পদোন্নতির চেষ্টা চালানো হয়।
এ পরিস্থিতিতে বিটিআরসিতে কর্মরত ছয় উপ-পরিচালক—সঞ্জিব কুমার সিংহ, কাজী মো. আহসানুল হাবীব, মো. জাকির হোসেন খান, এসএম আফজাল রেজা, মো. আসিফ ওয়াহিদ ও মো. হাসিবুল কবির—গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইনি নোটিশ পাঠান। পরবর্তীতে তারা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
রিটে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, বিভাগের অডিট উইংয়ের যুগ্ম পরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান এবং প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটের শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

