মো. মিজানুর রশীদ, যিনি সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি ছিলেন, তিনি বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্বে নিয়োগ পেয়েছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
বর্তমানে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) থেকে বদলি হয়ে প্রথমে অর্থ ও হিসাব বিভাগে এবং পরদিন প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও পান। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর রাখা হয়েছে, যা তার পূর্বের পদ থেকে উচ্চতর।
বিমানের কিছু কর্মকর্তা বিস্মিত হয়ে জানিয়েছেন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা অবস্থায় একজন কর্মকর্তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রশীদ সম্ভবত বিমানের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার সহায়তায় এই দায়িত্ব পেয়েছেন। উল্লেখ করা হয়েছে, তার পরিবারের সদস্যরাও দীর্ঘদিন বিমান বাংলাদেশে চাকরিতে যুক্ত ছিলেন। তার বড় ভাই মো. হারুন অর রশীদ ২০১৮ সালে ছয় কোটি টাকার টিএ/ডিএ ভুয়া ভাউচার কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত হন এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা পেয়েছিলেন; বর্তমানে তিনি পলাতক।
নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রশীদ বলেছেন, বিভাগীয় মামলা ও দুদক উভয়ই তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। তবে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, মিজানুর রশীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান এখনও চলমান রয়েছে এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশন থেকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সফটওয়্যার কেনা সংক্রান্ত তথ্য, অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় মামলার কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি এই তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে গেছে।

