রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমাউল হককে বদলি করা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে কয়েক লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে আসার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এই সিদ্ধান্ত নেয়।
আজ বুধবার (১৮ মার্চ) ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আমীর খসরু স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়, পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ইমাউল হককে জনস্বার্থে ডিএমপির ডেভেলপমেন্ট বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।
এর আগে তার ব্যক্তিগত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে দাবি করেন, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওসির মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে মোট ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে এসব টাকা পাঠানো হয়েছে। পরে সেই অর্থের বড় অংশ অনলাইন জুয়ায় ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভাটারা থানার পেছনের একটি দোকান থেকে প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল আমজাদের অ্যাকাউন্ট থেকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং কনস্টেবল সাদ্দামের নম্বর থেকে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া নাসিম নামের এক ব্যক্তির নম্বর থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা, মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা, খালেক নামে একজনের কাছ থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা এবং ‘লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ’ নামে নিবন্ধিত একটি নম্বর থেকে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মিজানুর নামের আরেক ব্যক্তির নম্বর থেকেও প্রায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়াও তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আসা এসব অর্থ একটি এপিআই পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ব্যয় করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অনলাইন জুয়া দুর্নীতিগ্রস্তদের অর্থ লেনদেনের একটি মাধ্যম হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি ইমাউল হক। তার দাবি, প্রায় এক মাস আগে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি হ্যাক করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই এবং একটি চক্র তার নম্বর ব্যবহার করে এসব লেনদেন করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান। তবে জিডি নম্বর জানতে চাইলে তিনি ফোনে বিস্তারিত বলতে চাননি এবং সরাসরি থানায় এসে কথা বলার অনুরোধ করেন।

