উত্তরায় এক গৃহবধূ ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে রাস্তায় পড়ে প্রাণ হারালেন, এই সংবাদ শুধু একটি অপরাধের গল্প নয়, বরং আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
প্রথমত, এখানে অপরাধীই মূল দায়ী একটি হিংসাত্মক ছিনতাইয়ের কারণে একজন নিরীহ মানুষের জীবন চলে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন এখানেই শেষ হয় না।
খবর অনুযায়ী, আহত অবস্থায় তাকে একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হয়, শেষে ঢাকা মেডিকেলে। এই “হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘোরা” বাস্তবতা আমাদের জন্য নতুন নয় বরং এটি একটি পরিচিত ট্র্যাজেডি যেখানে রোগী “গোল্ডেন আওয়ার” হারিয়ে ফেলে।
আমাদের দেশে অনেক প্রাইভেট হাসপাতাল ‘মেডিকো-লিগ্যাল’ ঝামেলার কারণে এমন রোগী নিতে অনীহা দেখায় কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায় জরুরি অবস্থায় একজন মুমূর্ষু রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে ফেরানো কি নৈতিক? আইনগত দিক থেকেও এটি প্রশ্নবিদ্ধ।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, গুরুতর আঘাতই অনেক সময় মৃত্যুর মূল কারণ। তবে সময়মতো চিকিৎসা পেলে সেই মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব অর্থাৎ, দেরি এই ক্ষেত্রে একটি নীরব ঘাতক।
এই ঘটনার দায় তাই বহুমাত্রিক: অপরাধী, স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা, এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার অকার্যকারিতা সব মিলেই এই মৃত্যু। এখন সময় এসেছে কিছু কঠিন প্রশ্ন তোলার:
- জরুরি রোগী ফিরিয়ে দিলে তার জবাবদিহি কোথায়?
- প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর জন্য কি স্পষ্ট আইনি নির্দেশনা কার্যকর আছে?
- আমরা কি সত্যিই একটি কার্যকর ট্রমা কেয়ার সিস্টেম গড়ে তুলতে পেরেছি?
একটি জীবন হারানোর পর শোক প্রকাশ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন যেখানে একজন আহত মানুষকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে তাকে “গ্রহণ করবে কি করবে না” এই অনিশ্চয়তায় পড়তে না হয়। নইলে, এই মৃত্যু একদিন আমাদের সবার জন্যই একটি সম্ভাব্য বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াবে।
লেখক: মো. হায়দার তানভীরুজ্জামান, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। Email: advocatefindmy@gmail.com

