গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে থানার ভেতরে ঢুকে হামলার ঘটনায় ওসিসহ অন্তত আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যুব জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে পলাশবাড়ী থানায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি দল থানায় এসে একটি পৌরসভার দোকানে তালা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বিষয়টি নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি একটি দাবি নিয়ে থানায় আসেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেন। তবে সংশ্লিষ্ট দোকানটি সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় সেখানে তালা দেওয়ার ক্ষমতা পুলিশের নেই বলে তিনি জানান। এই ব্যাখ্যা দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের মারধর শুরু করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে তিনি নিজে ছাড়াও আরও সাতজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দু’জন উপপরিদর্শক (এসআই), দু’জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং তিনজন কনস্টেবল রয়েছেন। গুরুতর আহত এক এএসআইয়ের হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তৌহিদুল ইসলাম কাকন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় এক দোকান নিয়ে বিরোধের জেরে এই উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, দোকানটি নিয়ে মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত জটিলতা থেকেই বিরোধের সূত্রপাত।
অন্যদিকে, স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, দোকানটি মূল মালিকের অনুপস্থিতিতে অন্যকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে থানায় গিয়ে কথা বলতে গিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা স্বীকার করেছেন, কিছু কর্মীর আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল এবং পুলিশের ওপর হামলা ঠিক হয়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

