রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে সাবেক ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতারের পর আবারও আলোচনায় এসেছে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা নানা অভিযোগ। গুম, নির্যাতন, নজরদারি থেকে শুরু করে আর্থিক অনিয়ম—বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার নাম বহুবার সামনে এসেছে।
গত বুধবার গভীর রাতে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে ওই মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
‘
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বহুল আলোচিত গোপন আটককেন্দ্র ‘আয়নাঘর’-এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তার দায়িত্বকালেই এমন গোপন স্থাপনা ব্যবহার করে বিরোধী মতাবলম্বীদের আটক, নির্যাতন ও গুমের ঘটনা বাড়ে।
২০০৭ সালের এক-এগারোর পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল পর্যন্ত তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআই প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফোনে আড়িপাতা, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলো ব্যবহার করে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি ফোর্সেস সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এফএসআইবি) পরিচালক ছিলেন। সে সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও উঠে। বিশেষ করে তারেক রহমানকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
২০১০ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসা থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাতেও তার নাম উঠে এসেছে, যদিও তিনি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
তার দায়িত্বকালে ব্যাপক হারে ফোনে আড়িপাতা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত আলাপ রেকর্ড করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ‘জঙ্গি নাটক’ সাজানোর অভিযোগও প্রচলিত ছিল।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেনা কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত একটি আবাসন প্রকল্প থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও তা কার্যকর হয়নি বলে জানা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ গড়ে তোলেন।
তার ও তার স্ত্রী নিগার সুলতানা খালেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগের মুখে থাকলেও সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অতীতের বহু আলোচিত ঘটনা সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

