পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তরমুজভর্তি ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া চাঁদাবাজি মামলায় এক সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মো. অলিউল্লাহ (৪৩) মির্জাগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপখাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তিনি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও ভোলার চরফ্যাশন এলাকার কয়েকজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমেও তারা চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় তরমুজ উৎপাদন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই জমির মালিকানা দাবি করে অলিউল্লাহ কৃষকদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। গত ১৬ মার্চ কৃষকেরা প্রায় ৯ হাজার তরমুজ দু’টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় অলিউল্লাহ ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন। কৃষকেরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে দু’টি ট্রলার জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ট্রলার ফেরত দেওয়া হলেও অন্যটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আরব আলী বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। বাউফল থানার তদন্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে কৃষকেরা অভিযুক্তের কারণে ভোগান্তিতে ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

