২০২০ সালের অক্টোবর মাসে জিলানী গ্লোবাল ট্রেড একটি ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায় বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে। দাবি করা হয়, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার মূল্যের আলু রপ্তানি করেছে। এর আগে, ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট আলু রপ্তানির অগ্রিম হিসেবে ৪১ হাজার ১৭৮.২২ মার্কিন ডলার দেশে এসেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী শুল্কও আদায় করেছে।
রপ্তানিকারক হিসেবে জিলানী গ্লোবাল সরকারি নগদ সহায়তা বা প্রণোদনার জন্য বিল অব এক্সপোর্ট ও ইএক্সপির মাধ্যমে আবেদন করে। ২০২১ সালের মে মাসে সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। অনুরূপভাবে, প্রতিষ্ঠানটির ৮১টি বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে অগ্রিম ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৭.৮৯ মার্কিন ডলার দেশে ফিরে আসে। প্রণোদনা হিসেবে নগদ ছাড় হয় ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার ৫৮২ টাকা।
তবে তদন্তে দেখা গেছে, জিলানী গ্লোবাল ট্রেডসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আলু রপ্তানির নামে কোটি কোটি টাকা জালিয়াতি করেছে। ২১১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করা হলেও বাস্তবে কোনো পণ্য বন্দরে আসেনি বা জাহাজে ওঠেনি। শিপিং এজেন্ট, অফ-ডক প্রতিষ্ঠান ও বন্দর কর্তৃপক্ষের নথিপত্রেও রপ্তানির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মূলত কাগজে আলু ছিল, বাস্তবে কোনো পণ্য রপ্তানি হয়নি।
পরিস্থিতি বিবেচনা করলে মনে হয় সবকিছু ঠিক আছে। রপ্তানির বর্ণনা আছে, কিন্তু আলুর বাস্তব অস্তিত্ব নেই। অভিযোগ উঠেছে, আলুর উৎপাদন, ক্রয়, গুদামজাতকরণ, প্যাকেজিং বা জাহাজিকরণ—কোনোটিই বাস্তবে হয়নি। অর্থাৎ পণ্য দুবাই যায়নি। তবু বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে। এই রহস্য খতিয়ে দেখার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিভাগীয় তদন্তের সূত্র ধরে ঢাকা পোস্ট অনুসন্ধান শুরু করে।
জানা যায়, জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের ৮১টি পণ্য চালানের বিপরীতে শিপিং এজেন্ট হিসেবে ‘ওয়ান কার্গো লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান উল্লেখ আছে। তবে বাস্তবে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই। দেখা যায়, জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের ৮১টি বিল অব এক্সপোর্টের মধ্যে উত্তরা ব্যাংকে ৫২টি, অগ্রণী ব্যাংকে ২৮টি এবং সিটি ব্যাংকে ১টি বিল ছিল। মূল ঘটনা বোঝার জন্য আলুর ডিপোতে প্রবেশ, রপ্তানি এবং প্রণোদনা ছাড়—সব বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
আলু কি ডিপোতে প্রবেশ করেছিল?
জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের ৮১টি পণ্য চালানের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে চারটি অফ-ডক প্রতিষ্ঠান নামের উল্লেখ—
মেসার্স শফি মটরস লিমিটেড, মেসার্স ভারটেক্স অফ-ডক লজিসটিক সার্ভিসেস লিমিটেড, মেসার্স কে অ্যান্ড টি লজিসটিকস লিমিটেড ও ইনকন্ট্রেড লিমিটেড। বিল অব লেডিং অনুসারে ২০১৯ ও ২০২০ সালের বিভিন্ন সময়ে রপ্তানি পণ্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিপো হয়ে বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। তবে তদন্তে প্রকাশ, এই প্রতিষ্ঠানগুলো কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, তারা কোনো রপ্তানি পণ্য গ্রহণ করেনি।
ডিপো কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে, বিল অব এক্সপোর্ট অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অফ-ডকগুলোতে পণ্য গ্রহণের কোনো রেজিস্ট্রি নেই। ব্যাংক থেকে সরবরাহকৃত হার্ড কপিতে যে সিল ও রেজিস্টার নম্বর উল্লেখ আছে, তা ডিপোতে থাকা নম্বরের সঙ্গে মিলে না। ফলে, স্পষ্ট হলো যে আলু বা অন্য কোনো পণ্য ডিপোতে প্রবেশ করেনি। কাগজে রপ্তানি দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো পণ্য ডিপোতে পৌঁছায়নি এবং বিদেশেও যায়নি। এই তথ্য জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের আলু রপ্তানির কেলেঙ্কারিকে আরও নিশ্চিত করে।
জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের ৮১টি পণ্য চালানের বিপরীতে শিপিং এজেন্ট হিসেবে ‘ওয়ান কার্গো লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই। বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফফা) এবং বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন—উভয়েই নিশ্চিত করেছে যে, এই নামে তাদের কোনো সদস্য নেই।
বাফফা’র অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি মো. আহসান উল্লাহ বলেন, “ওয়ান কার্গো লিমিটেড নামের কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের সদস্য নয়। ওই শিপিং এজেন্ট সম্পর্কিত কোনো তথ্যও আমাদের জানা নেই।” শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের অফিস কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন জানান, “আমাদের সদস্য তালিকায় এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নেই।”
তদন্তে দেখা গেছে, জালিয়াত চক্র সরকার প্রদত্ত উচ্চ হারের নগদ প্রণোদনা (১৫–২০ শতাংশ) সুবিধা নিতেই কৃষিপণ্যকে বেছে নিয়েছে। পণ্য রপ্তানি না করেই জিলানী গ্লোবাল ৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, এবং অন্তরা কর্পোরেশন সাড়ে ৭ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা হাতিয়ে নিয়েছে। কাস্টমস ও দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এমন অন্তত ৫৭টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এখান থেকে পরিষ্কার যে, শিপিং এজেন্ট কাগজেই ছিল, বাস্তবে কোনো পণ্য ডিপোতে পৌঁছায়নি বা বিদেশে যায়নি। আলু রপ্তানির পুরো প্রক্রিয়া কেবল কাগজে ঘটেছে।
আলু কি জাহাজীকরণ হয়েছে?
জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের ৮১টি বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে যে কন্টেইনারগুলো ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে শিপিং অন বোর্ড হয়েছে কি না তা যাচাই করা হয়। বন্দরের ট্রাফিক ডিপার্টমেন্টের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ঢাকা পোস্টকে বলেন, “বন্দর কেবল কন্টেইনার সংখ্যা যাচাই করতে পারে। পণ্যের বিষয় আমরা দেখতে পারি না। জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের ক্ষেত্রে সম্ভবত ভুয়া কন্টেইনার নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।” ফলে, ৮১টি রপ্তানি পণ্য চালানের কোনো পণ্যই বাস্তবে রপ্তানি বা শিপিং অন বোর্ড হয়নি।
কাস্টমস তদন্ত টিমও জানিয়েছে, শিপিং অন বোর্ডের তারিখ ও বিল অব এক্সপোর্টের তারিখের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভুয়া শিপিং এজেন্ট নম্বর ব্যবহার করেছে। চট্টগ্রাম টার্মিনালের ম্যানেজার সাইফুল আলম বলেন, “আমরা কেবল কন্টেইনার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকি। ভেতরে কী আছে তা দেখতে পারি না। এটি কাস্টমস ও শিপিং এজেন্টের দায়িত্ব।”
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দাবি ও কাস্টমসের বক্তব্য:
জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের রপ্তানি কেলেঙ্কারিতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে নাম উঠে এসেছে ‘জাহিন এন্টারপ্রাইজ’। এর মালিক দিলরুবা আফরোজ লিখিত বক্তব্যে দাবি করেছেন, “অজ্ঞাতনামা জালিয়াত চক্র পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে ঢুকে জাহিন এন্টারপ্রাইজের পাসওয়ার্ড হ্যাক করেছে। চুরি বা অন্য কোনোভাবে আমাদের কাগজ ব্যবহার করে দীর্ঘদিনের অর্জিত সততা ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।”
অন্যদিকে কাস্টমসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লাইসেন্সিং রুলস ২০১৬ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান মালিক পণ্য চালান বা জালিয়াতির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে দায় এড়াতে পারেন না। অর্থাৎ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দাবির ভিত্তিতে অভিযোগের দায় এড়ানো সম্ভব নয়। আইন অনুসারে, রপ্তানির প্রতিটি চালান ও জালিয়াতি ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট এজেন্টের দায়িত্ব রয়েছে।
রপ্তানিকারক জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের দাবি:
রপ্তানির সত্যতা যাচাই করতে ঢাকা পোস্ট সরেজমিনে জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের মতিঝিল ও উত্তর কমলাপুরের কবি জসিম উদ্দিন রোডের ঠিকানায় যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. অলিয়ন দাবি করেন, “রপ্তানি হয়েছে এমন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দাখিল করেই প্রণোদনা নেওয়া হয়েছে। রপ্তানি হয়েছে বলেই অর্থ পেয়েছি।”
কিন্তু, অনুসন্ধান থেকে দেখা গেছে—অফ-ডক প্রতিষ্ঠান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রপ্তানি না হওয়ার কথা বলছে। শিপিং এজেন্টের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তার মতো করে বক্তব্য দিয়েছে। কাস্টমস ইতোমধ্যে মামলা করেছে। বিষয়টি আদালতে যাবে। আমি যা বক্তব্য দিতে চাই, সেখানেই দেব। এ বিষয়ে আর মন্তব্য করতে চাই না।” ফলে, রপ্তানিকারকের দাবি কাগজভিত্তিক প্রণোদনা গ্রহণের উপর ভিত্তি করে, কিন্তু বাস্তবতা ও তদন্ত প্রমাণ করে যে পণ্য রপ্তানি হয়নি, শিপিং এজেন্টও অস্তিত্বহীন ছিল।
বিল অব এক্সপোর্টে স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তাদের বক্তব্য:
জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের ৮১টি বিল অব এক্সপোর্ট যাচাই-বাছাই করেছেন ১২–১৪ জন কর্মকর্তার নাম পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে শুল্কায়নকারী হিসেবে রয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান, বাসুদেব পাল, পপি চাকমা, নওশের আলী, সৈয়দ সাহেদুল করিম, স্মরণিকা চাকমা ও এফ এম মশিউর রহমান। কায়িক পরীক্ষণকারী হিসেবে নাম পাওয়া গেছে আব্দুল হাই হাওলাদার, আবুল কাশেম, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ, ইমরান হোসেন, রফিকুল ইসলাম, উম্মে সালমা ও মো. সাইফুল আলমের। তাদের প্রায় সবার বক্তব্য, “পণ্য চালানগুলোর পরীক্ষণ রিপোর্টে স্বাক্ষর আমাদের নয়। আমরা কাস্টমস তদন্ত টিমকেও এই কথা জানিয়েছি।”
তদন্তে দেখা গেছে, মহাজালিয়াতিটি সম্পন্ন হয়েছে কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে এবং অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের তথ্য ম্যানিপুলেট করে। অনেক ক্ষেত্রে শিপিং এজেন্টের নামও ভুয়া ছিল। ব্যাংকগুলো কেবল নথিপত্র দেখে প্রণোদনা দিয়েছে, কিন্তু পণ্য জাহাজীকরণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়নি।
বিশেষভাবে,
- ৩৩টি বিল অব এক্সপোর্টে কায়িক পরীক্ষণকারী হিসেবে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষর ও সিলের মিল পাওয়া গেছে।
- ৩১টি বিল অব এক্সপোর্টে কায়িক পরীক্ষণকারী ও শুল্কায়নকারী হিসেবে রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হাই হাওলাদারের স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার হয়েছে।
- ২৮টি বিল অব এক্সপোর্টের শুল্কায়নকারী কর্মকর্তা হিসেবে রাজস্ব কর্মকর্তা নওশের আলীয়ের স্বাক্ষর ও সিল পাওয়া গেছে।
কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগে তারা মন্তব্য করেছেন, “চালানগুলোর পরীক্ষণ রিপোর্টের স্বাক্ষর আমাদের নয়। তারিখ সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। কে বা কারা সুকৌশলে স্বাক্ষর ও তারিখ জাল করে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করেছে, সে বিষয়ে আমরা অবগত নই।” ফলে, স্পষ্ট হলো যে বিল অব এক্সপোর্টে স্বাক্ষর ও সিলের মাধ্যমে জালিয়াতি করা হয়েছে এবং রপ্তানি প্রক্রিয়ার সমস্ত নথি কাগজে ভুয়া দেখানো হয়েছিল।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দায়: জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের ৮১টি বিল অব এক্সপোর্টের প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি ব্যাংক সরাসরি যুক্ত ছিল।
অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড:
- ২৮টি পণ্য চালানের বিপরীতে ২ কোটি ১৩ লাখ ১৬ হাজার টাকার বেশি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
- ২০২০ সালের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ২৮টি বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে মোট ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪৫ মার্কিন ডলার বিদেশ থেকে দেশে এসেছে।
- প্রণোদনা হিসেবে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ৯৫০ টাকা দেওয়া হয়েছে।
- ব্যাংকের ডিজিএম (জনসংযোগ) শাহনাজ চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, “দুঃখিত, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দিতে পারব না। এটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়।”
উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড:
- ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৫২টি পণ্য চালানের বিপরীতে ২০ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৫ মার্কিন ডলার প্রত্যাবাসন হয়েছে।
- প্রণোদনা হিসেবে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার ১২৩ টাকা দেওয়া হয়েছে।
- ব্যাংকের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, রপ্তানি বিলের বিপরীতে পণ্য মূল্য বিদেশ থেকে যথাযথভাবে প্রত্যাবাসিত হয়েছে।
- উত্তরা ব্যাংকের তৎকালীন ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ নাজনীন নাহার শারমী জানান, “গ্রাহকের সব ডকুমেন্ট মিল থাকায় প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আলু গিয়েছিল কি না, তা দেখার দায়িত্ব কাস্টমসের।”
সিটি ব্যাংক লিমিটেড:
-
২০২০ সালের অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার মূল্যের আলু রপ্তানির বিপরীতে ৪১ হাজার ১৭৮.২২ মার্কিন ডলার দেশে এসেছে।
-
নগদ সহায়তা হিসেবে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা প্রণোদনা ছাড়ের বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়া কেবল প্রণোদনা চুরি নয়। এটি পাচার করা কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে বৈধ করার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। বিদেশ থেকে ‘রপ্তানি আয়’ দেখিয়ে কোটি কোটি ডলার ব্যাংকে এসেছে, যদিও বাস্তবে রপ্তানি হয়নি। সিপিডি অনুসারে, হুন্ডি বা হাওলার মাধ্যমে প্রবাসীদের টাকা ব্যবহার করে এই কাগুজে রপ্তানির খেলা চলছে, ফলে টাকা সাদা হচ্ছে এবং প্রণোদনা মিলছে। ফলে, ব্যাংকগুলো নথিপত্র ও কাগজের উপর ভিত্তি করে প্রণোদনা দিয়েছে, কিন্তু পণ্য জাহাজীকরণ বা রপ্তানি বাস্তবতা যাচাই করেনি।
কাস্টমস ও দুদকের পদক্ষেপ:
অনিয়ম জানাজানি হওয়ার পর ২০২২ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমস ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। এরপর, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর কাস্টমস একটি মামলা দায়ের করে। মামলার বাদী ছিলেন কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, আর আসামি করা হয়েছে:
- জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের মালিক মো. অলিয়ন
- সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জাহিন এন্টারপ্রাইজের মালিক দিলরুবা
- সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট
পরবর্তীতে, যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাজিউর রহমান মিয়া নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদনে সুপারিশ করে যে, জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের ৮১টি রপ্তানি পণ্য চালানের বিপরীতে পণ্য রপ্তানি না হওয়া সত্ত্বেও বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করা এবং নগদ প্রণোদনা ছাড় হওয়া বিষয়টি আরও তদন্তের সুযোগ রয়েছে।
যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাজিউর রহমান মিয়া বলেন, “আমাদের তদন্তে প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করা হয়েছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট পারস্পরিক যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে বেনামি শিপিং এজেন্ট দেখিয়ে প্রণোদনার টাকা আত্মসাৎ করেছে। তদন্ত এখনও চলমান।”
চট্টগ্রাম কাস্টমসের পক্ষ থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) শরীফ আল আমিন বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। তদন্ত এখনও চলছে। দুদকও একই বিষয়ে কাজ করছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন অপর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, “যেহেতু স্বাক্ষর জাল হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সেহেতু তাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড কীভাবে অন্যের হাতে গেল—এর দায় তারা এড়াতে পারবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।” ফলে, কাস্টমস ও দুদক যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।
অনিয়মের আরও উদাহরণ: জিলানী গ্লোবাল ট্রেডের কেলেঙ্কারির সঙ্গে মিল রেখে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভুয়া আলু রপ্তানি ও প্রণোদনা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে।
অন্তরা কর্পোরেশন:
-
২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৯৬টি বিল অব এক্সপোর্টের মাধ্যমে আলু রপ্তানি দেখিয়ে ২০ শতাংশ প্রণোদনা গ্রহণ করেছে।
-
ব্যাংক ভিত্তিক প্রণোদনা:
-
সোনালী ব্যাংক, দিলকুশা শাখা: ৮৩টি বিলের বিপরীতে ৬ কোটি ৪৯ লাখ ৫২ হাজার ৭০০ টাকা
-
উত্তরা ব্যাংক, দিলকুশা শাখা: ১১টি বিলের বিপরীতে ৮৯ লাখ ৬১ হাজার ১২২ টাকা
-
ব্যাংক এশিয়া, দিলকুশা শাখা: ২টি বিলের বিপরীতে ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৮২৯ টাকা
-
মোট প্রণোদনা: ৭ কোটি ৫৪ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা
-
-
দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে, এখানে আলু রপ্তানি হয়নি। ৪৬ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৭ মার্কিন ডলার দেশে অগ্রিম বিল হিসেবে প্রত্যাবাসিত হয়েছে। পণ্য ডিপোতে পৌঁছায়নি বা রেজিস্টারে এন্ট্রি হয়নি।
-
জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় দুদক ৩০ অক্টোবর অন্তরা কর্পোরেশন, সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে।
দো এম্পেক্স লিমিটেড:
-
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে কৃষিপণ্য রপ্তানির নামে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে।
-
প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দুদক ২৬ নভেম্বর ১১ জন কাস্টমস কর্মকর্তা, অডিট ফার্ম ও রপ্তানিকারকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
-
২০১৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করেছে।
-
৭টি বিল অব এক্সপোর্টে রপ্তানি সত্যতা মিলেছে, কিন্তু ৩৪টি বিলের কোনো পণ্যই বিদেশে যায়নি।
-
তবুও, অগ্রিম হিসেবে ২২ লাখ ১৮ হাজার ১৭.৪৪ ডলার দেশে এসেছে এবং প্রণোদনা হিসেবে ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
-
মালিক জিয়া হায়দার মিঠু দাবি করেছেন, “রপ্তানির জন্য সমস্ত কাগজপত্র আছে। সরকারি ৬–৭টি প্রতিষ্ঠানও সম্পৃক্ত। অডিট রিপোর্টও পক্ষে। তারপরও অভিযোগ এলে আমরা কিছু করতে পারি না। রাজনৈতিক কোনো ইস্যু রয়েছে।”
দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, “রপ্তানির নামে নগদ প্রণোদনা হাতিয়ে নেওয়ার নজির আগেও দেখা গেছে। অভিযোগ-সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ভবিষ্যতেও যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফলে, জিলানী গ্লোবালের কেলেঙ্কারি শুধুই প্রথম নজির নয়। অন্তরা কর্পোরেশন ও দো এম্পেক্স লিমিটেডের ঘটনা দেখাচ্ছে, কৃষিপণ্য রপ্তানির নামে দেশে কোটি কোটি টাকা কাগুজে রপ্তানি ও প্রণোদনা হাতিয়ে নেওয়ার ধারা চলছেই।
কেন লক্ষ্যবস্তু কৃষিপণ্য?
বছরের পর বছর ধরে একই প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে। কাগজে-কলমে কৃষিপণ্য রপ্তানি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা প্রণোদনা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ঢাকা পোস্টের অনুসন্ধানে এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উচ্চ প্রণোদনার হার। সরকার বর্তমানে অনেক কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ ১০০ কোটি টাকার কৃষিপণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা প্রায় ২০ কোটি টাকা। এই উচ্চ হারই জালিয়াতির বড় প্রলোভন হিসেবে কাজ করছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কৃষিপণ্য যাচাই করা তুলনামূলক কঠিন।
- শিল্পপণ্য বা তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে স্পেসিফিকেশন, ব্র্যান্ড ও পরিমাপযোগ্য মানদণ্ড থাকে।
- কিন্তু আলু, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, চাল, ডাল, শাকসবজি ইত্যাদির মান ও ওজন নির্ধারণ স্পষ্ট নয়।
- প্যাকেট খুলে যাচাই করাও প্রায় অসম্ভব।
- আন্তর্জাতিক বাজারদরও সহজে যাচাই করা যায় না।
ফলে, কাস্টমস পর্যায়ে চালান যাচাই মূলত কাগজে নির্ভর হয়ে পড়ে। এছাড়া, কৃষিপণ্য নষ্টযোগ্য ও পচনশীল হওয়ায় দ্রুত ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন থাকে। এই দুর্বলতাকে জালিয়াত চক্র পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাগুজে রপ্তানি তুলনামূলক সহজ। যদিও কৃষিপণ্যে প্রণোদনার প্রয়োজন রয়েছে, কন্টেইনার নম্বর, শিপিং লাইন ও ব্যাংকের তথ্য অটোমেশনে যুক্তকরণসহ কঠোর নজরদারি জালিয়াতির সম্ভাবনা কমাতে পারে।
তিন ঘটনায় প্রণোদনার ১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা হাওয়া:
জিলানী গ্লোবাল ট্রেড, অন্তরা কর্পোরেশন ও দো এম্পেক্স লিমিটেডের তিনটি ভুয়া আলু রপ্তানি কেলেঙ্কারির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রপ্তানির বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪২ মার্কিন ডলার বিদেশ থেকে অগ্রিম রপ্তানি বিল হিসেবে এসেছে, যেখানে কোনো পণ্যই বাস্তবে রপ্তানি হয়নি। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই অর্থের টাকার অংকে মূল্য প্রায় ৮৭ কোটি ৪৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা। একই সময়ে সরকারের প্রণোদনা হিসেবে ছাড় হয়েছে ১৬ কোটি ৮৩ লাখ ১৪ হাজার ২৩৩ টাকা।
সিপিডি’র সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চক্রটি হয়তো দুর্নীতির টাকা বা কালো টাকা বাইরে পাঠিয়ে বৈধ করার চেষ্টা করেছে। টাকা সাদা হয়েছে, আবার প্রণোদনাও এসেছে। অন্য সম্ভাবনা হলো—হুন্ডি বা হাওলার মাধ্যমে প্রবাসীদের টাকা ব্যবহার করে এই ব্যবসা করা।”
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, “রপ্তানির নামে নগদ প্রণোদনা হাতিয়ে নেওয়ার নজির আগেও দেখা গেছে। অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের হয়েছে। ভবিষ্যতেও যাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্তে আরও পাওয়া গেছে, কাস্টমস ও দুদকের কাছে আরও ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য-উপাত্ত রয়েছে, যারা একই কৌশলে প্রায় ১৪৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রণোদনা হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়গুলো বর্তমানে তদন্তাধীন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রপ্তানির নামে প্রণোদনা হাতানো একটি উচ্চ মুনাফাজনক ‘অবৈধ ব্যবসা’। ড. ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক, বলেন, “এখানে তিন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়—কালো টাকা সাদা করা, ট্রেড-বেইজড মানিলন্ডারিং এবং প্রণোদনা সুবিধা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া। ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি লাভজনক হলেও বৈধ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে কেন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা করবে? এর অর্থ, উপার্জিত অর্থের বৈধতা সন্দেহজনক।”
তিনি আরও বলেন, “জালিয়াত চক্র প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে রপ্তানি না করেও মানিলন্ডারিং করছে, আবার প্রণোদনার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে অনেক সহায়তাকারী জড়িত। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র দুদক বা কাস্টমসের মামলা যথেষ্ট নয়, মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধে তিনগুণ অর্থদণ্ডও কার্যকর করলে এ ধরনের অপরাধ রোধ সম্ভব।”
ফলে, এই তিনটি ঘটনা শুধু প্রণোদনা হাতিয়ে নেওয়ার নয়, কালো টাকা বৈধ করার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও জবাবদিহিতার অভাবের কারণে বারবার সংঘটিত হচ্ছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

