পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে সরকারি কাগজপত্রে জালিয়াতি করে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) এক উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পর ভুয়া স্মারক নম্বর ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে সরকারি কাজে ফাঁদ তৈরি করার এই ঘটনা দেশের সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির ভয়ংকর দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সওজের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত মো. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ভুয়া স্মারক তৈরি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করে ব্যাংকের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগের নকল ঘটিয়েছেন।
সওজের ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম ইলিয়াস শাহ্ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে। আমরা বিষয়টি যাচাই করে দেখব।” প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান ফোনে যোগাযোগে আসেননি। জানা গেছে, মো. জাহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সড়ক সার্কেলে উপসহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালীন এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটিয়েছেন। বর্তমানে তিনি সওজের পিরোজপুর সড়ক বিভাগে সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। সওজের নথি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংযোগ সড়ক ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের প্রায় ১৬৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা মূল্যের কাজ ২০২২ সালের জুনে শেষ হয়। ৩১ অক্টোবর ২০২২ সালে সমাপ্তি সনদ ইস্যু করা হয়।
কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর পর, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সড়ক সার্কেল থেকে ভুয়া স্মারক নম্বর ব্যবহার করে প্রকল্পের সময়সীমা ৫৪৮ দিন বাড়ানোর প্রস্তাব দেখানো হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রধান প্রকৌশলী অনুমোদন দিয়েছেন, যা পরে ভুয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে।
অভিযুক্ত চিঠিতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর স্বাক্ষর জাল করা হয় এবং সরকারি ই-মেইলের বদলে তার ব্যক্তিগত ইয়াহু ই-মেইল ব্যবহার করা হয়। ফলে প্রকৃত দাপ্তরিক যোগাযোগ হয়নি। পরবর্তী সময়ে ওয়ান ব্যাংক কারওয়ান বাজার শাখা চিঠির সত্যতা যাচাই করতে পটুয়াখালী সড়ক সার্কেলে পাঠায়। অভিযোগ অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলামই সেই যাচাই করেন। ব্যাংকের কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট না হয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সরাসরি সড়ক বিভাগে এসে তদন্ত চালান।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা অসত্য তথ্য প্রেরণ, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (নং-০৩/২০২৫) রুজু করা হয়। একই সঙ্গে তাকে ১০ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছি এবং আমার জবাব দিয়েছি। যে চিঠির ভিত্তিতে আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তার স্বাক্ষর আমার নয়। অফিসের চিঠি হলে আমার ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত নই।” তিনি আরও বলেন, “প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে আমার কিছু দূরত্ব আছে এবং তার কিছু ব্যক্তিগত আক্রোশও রয়েছে।”

