উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। ভুয়া ও অনুমোদনহীন ভাউচার ব্যবহার করে প্রায় ৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শামসুল আরেফীন এবং প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মকর্তা মিঠু কুমার সাহা।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়াই তারা প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করেন এবং তা আত্মসাৎ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুয়া ও অনুমোদনহীন ভাউচার তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটির হিসাব থেকে মোট ৪ কোটি ৮৩ লাখ ১২ হাজার ১২৫ টাকা তুলে নেওয়া হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অর্থ আত্মসাতের ক্ষেত্রে অধিকাংশ লেনদেন তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে না করে নগদে সম্পন্ন করা হয়েছে। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের (এফআইডি) জারি করা সার্কুলারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার যে নিয়মকানুন রয়েছে, এই ঘটনায় তা উপেক্ষিত হয়েছে বলে অনুসন্ধানে দেখা গেছে।
এ ধরনের অনিয়ম শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের আর্থিক খাতে সুশাসন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে আনে। বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর, সে প্রশ্নও জোরালো হয়।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

