দেশে গ্যাস এবং তরল জ্বালানিতে নানামুখী সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে সরকারের তত্ত্বাবধানের অভাবে সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং সরকারের জ্বালানি বিভাগ বেসরকারি রিফাইনারি স্থাপনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
এর আগে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে বেসরকারি রিফাইনারি রয়েছে। বাংলাদেশে বেসরকারি রিফাইনারি দেওয়া হলে তা কোনো একক প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে না, বরং উন্মুক্ত হবে।’ এই মন্তব্য তিনি ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে বিপিসির এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে করেছিলেন।
তবে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তিনি তার বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন। চলতি নির্বাচনী আবহে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি রিফাইনারি ও জ্বালানি তেল আমদানি করার অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি।
এ বিষয়ে আরও সংশয় তৈরি হয়েছে ৯ ফেব্রুয়ারি বিপিসির ১০১৭তম বোর্ড সভায় বিষয়টি থাকলেও, একদিন আগে অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জরুরি ভিত্তিতে জুম প্ল্যাটফর্মে তড়িঘড়ি করে সভা ডাকা হয়। এ ঘটনায় নীতিগত স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সংশয় তৈরি হয়েছে।
দেশে গ্যাস ও এলপিজি সংকটের মাঝে নতুন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। জানা গেছে, দেশের একটি বড় শিল্পগ্রুপকে বেসরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধন, আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দিতে ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বেসরকারি জ্বালানি নীতিমালা-২০২৩ করেছিল। তাতে দেশীয় বিশিষ্টজনদের মধ্যে দ্বিমত থাকলেও শেষমেষ ওই শিল্পগ্রুপকে সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পরপরই, পরের ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামভিত্তিক টিকে গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল, বর্তমানে এসপি পিএলসি) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে। আবেদনটি করা হয়েছিল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত ও বিপণনের জন্য।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম এই প্রক্রিয়াকে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “মীরজাফর ব্রিটিশদের হাতে দেশ তুলে দিয়েছিল। এখন এরা বেসরকারি অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে দেশ তুলে দিচ্ছে। আগে আওয়ামী লীগ সরকার ইআরএল-২ এস আলমের হাতে সুযোগ দিয়েছিল। এখন একই কাজ হচ্ছে, তবে লোক আলাদা। এ বিষয়ে আমার প্রতিবাদের ভাষা নেই।”
আবেদনে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টন পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য উল্লেখ করা হলেও বিনিয়োগের আর্থিক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এই আবেদনের ভিত্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি বিভাগ বিপিসিকে মতামত চেয়ে চিঠি পাঠায়। এরপর বিপিসি মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) মো. জাহিদ হোসাইনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেয়।
বিপিসির মতামত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তা দায়সারা ছিল। প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত প্রকল্পে আর্থিক বিনিয়োগের কোনো তথ্য ছিল না। এ ঘটনায় শঙ্কা তৈরি হয়েছে, প্রকল্পটি শুধু নির্বাচনী তড়িঘড়ি ও স্বার্থান্বেষী উদ্যোগের ফলাফল কিনা। দেশের গ্যাস ও এলপিজি সংকটের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, দেশের একটি বড় শিল্পগ্রুপকে বেসরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধন, আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দিতে ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বেসরকারি জ্বালানি নীতিমালা-২০২৩ করেছিল। তাতে দেশীয় বিশিষ্টজনদের মধ্যে দ্বিমত থাকলেও শেষ পর্যন্ত ওই শিল্পগ্রুপকে সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এরপর ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামভিত্তিক টিকে গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল, বর্তমানে এসপি পিএলসি) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে। আবেদনটি করা হয়েছিল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত ও বিপণনের জন্য।
এরপর অতিগোপনে, ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল বিপিসির সদ্য ওএসডি হওয়া চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জ্বালানি বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়ে এসপিএলকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করেন। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বার্ষিক ১৫ লাখ টন উৎপাদনক্ষম একটি রিফাইনারি প্রতিষ্ঠায় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এ ধরনের পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির প্রায় সবই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে।
১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম-ঢাকা পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বেসরকারিতে আপাতত নতুন রিফাইনারি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে সরকারের ৩০ লাখ টন পরিশোধন ক্ষমতার ইআরএল-২ প্রকল্প ১২ বছর ধরে ঝুলে থাকার পর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার প্রেক্ষিতে, নতুন বেসরকারি রিফাইনারি প্রকল্প এটি অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যেতে পারে। ফলে অভিজ্ঞ মহলে হঠাৎ কোনো উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই রিফাইনারি দেওয়ার পদক্ষেপকে সমালোচনা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানা ডি নথিতে একটি নোটিশ দেন। এটি ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় জুম প্ল্যাটফর্মে হওয়া বিপিসির ১০১৭তম বোর্ড সভার আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। আলোচনার ৩ নম্বর এজেন্ডায় ছিল এসপিএল কর্তৃক উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি প্রদান। তবে সভাটি একদিন আগে আয়োজন করা হলে বিপিসি ও তার অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসি ও অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ইআরএলের কয়েকজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, “ইআরএল-২ প্রকল্পটি এখনও শুরু হয়নি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন রিফাইনারির অনুমতি দিলে ইআরএল-২ প্রকল্প আবার ঝুলে যাবে। প্রভাবশালী শিল্পগ্রুপগুলো রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রকল্পটি বিলম্বিত করতে পারে। ইতিপূর্বে ১২ বছর ধরে দেশের এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রে ইআরএল-২ প্রকল্প স্থগিত ছিল। শেষ সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই সমালোচিত শিল্পগ্রুপ এস আলমকে প্রকল্প দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।” এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, বর্তমান তড়িঘড়ি পদক্ষেপ কি সত্যিই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য, নাকি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির অংশ।
চট্টগ্রামে বেসরকারি রিফাইনারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জানা যায়, ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানা একটি নোটিশ জারি করেন। পরের দিন হওয়ার কথা থাকা ১০১৭তম বোর্ড সভা একদিন এগিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজন করা হয়। সভার আলোচ্যসূচিতে ছিল সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল) কর্তৃক উৎপাদিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি।
সভা নিয়ে জানতে চাইলে শাহিনা সুলতানা বলেন, “আমি আদিষ্ট হয়ে নোটিশ করেছি। নির্বাচনের দায়িত্বে বাইরে থাকার কারণে সভা একদিন এগিয়ে হয়েছে। আমি মোবাইলের মাধ্যমে যুক্ত ছিলাম, কিন্তু নেটওয়ার্ক জটিলতার কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় উপস্থিত থাকতে পারিনি। সিদ্ধান্ত কী হয়েছে, জানি না।”
কার্যপত্র অনুযায়ী, বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মণি লাল দাশ উপস্থাপন করেছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় প্রাথমিক অনুমতি প্রদানের বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক বিবেচনা করা যেতে পারে।”
কার্যপত্রে বলা হয়েছে, এসপিএলের ন্যাফতা ও কনডেনসেট প্ল্যান্টের বার্ষিক প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা সাড়ে ছয় লাখ টন, যা বর্তমানে চালু। ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণের জন্য স্থাপন হতে যাওয়া প্ল্যান্টের বার্ষিক ক্ষমতা সোয়া ১৯ লাখ টন। বেসরকারি নীতিমালার আওতায় কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বা যৌথ মালিকানায় বার্ষিক ন্যূনতম ১৫ লাখ টন ক্ষমতাসম্পন্ন রিফাইনারি স্থাপন করতে পারে।
এসপিএলের নিজস্ব জেটি সুবিধা রয়েছে। নদীর ড্রাফট অনুযায়ী, বর্তমানে ১০০০–১২০০ টনের জাহাজে তেল বোঝাই ও খালাস করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, “এসপিএল আগেও আবেদন করেছিল। যে-ই আবেদন করবে, তারটিই মিটিংয়ে যাবে। কোনো টেন্ডার হবে না। যাদের ফ্যাসিলিটিজ আছে, তাদের আবেদন বিপিসিতে পাঠানো হবে। অন্যদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।”
অর্থ ও উৎপাদন সক্ষমতা: প্রস্তাবিত প্ল্যান্ট স্থাপিত হলে বিদ্যমান জেটি সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। প্রতিষ্ঠান আর্থিক সক্ষমতার স্বপক্ষে ব্যাংক সনদ দাখিল করেছে। আন্তর্জাতিক কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আবেদনের সময় বিপিসির অনুকূলে এক কোটি টাকার পে-অর্ডার দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ইয়েল্ড প্যাটার্ন অনুযায়ী, বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২২ লাখ টন। এর মধ্যে বছরে প্রায়:
- ৯ লাখ ২৩ হাজার ৬৭০ টন ডিজেল
- ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮২০ টন ফার্নেস অয়েল
- ৪ লাখ ৫ হাজার ৮২২ টন অকটেন
- ১ লাখ ৯ হাজার ৭১০ টন বিটুমিন
- এছাড়া বিটুমিন, এমটিটি, সলভেন্ট ও স্বল্পমাত্রার অন্যান্য পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যও উৎপাদিত হবে।
কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী এসপিএল প্রথম ৩ বছর ৪০ শতাংশ এবং পরবর্তী দুই বছর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ডিজেল নিজস্ব ব্যবস্থায় বিপণন করবে। ওই পরিমাণ ডিজেলের চাহিদা ক্রমান্বয়ে কয়েক বছরের মধ্যে সমন্বয় করা হবে।
বেসরকারি রিফাইনারি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় জ্বালানি খাতের ডিলাররা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এসপিএল বিপণনে যুক্ত হলেও বিপণন কোম্পানির ডিলাররা সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে এসপিএলের বিপণন নেটওয়ার্কের বিস্তারিত তথ্য কমিটির কাছে না থাকায় ক্ষতির পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার তেল বিপণনে বিপিসিকে এক টাকা হারে সার্ভিস চার্জ প্রদান করবে।
এসপিএল তাদের বর্তমান প্ল্যান্টের ন্যাফতা ও উৎপাদিত তরল পণ্য বিপিসিকে সরবরাহের জন্য কর্ণফুলী নদীর তলদেশে পাইপলাইন নির্মাণ করেছে। এই পাইপলাইনের আবেদন করা হয়েছিল ২০২০ সালে। নসরুল হামিদের সুপারিশে অনুমোদন হলেও বাস্তবায়ন হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, হাসিনা সরকারের পতনের পর। পাইপলাইনটি এখনও অপারেশন শুরু করেনি। কিন্তু বিপিসির মহাব্যবস্থাপকের কার্যপত্রে পাইপলাইনের কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।
রোববার সন্ধ্যায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, “মীরজাফর ব্রিটিশদের হাতে দেশ তুলে দিয়েছিল। এখন এরা বেসরকারি অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে দেশ তুলে দিচ্ছে। আগে আওয়ামী লীগ সরকার ইআরএল-২ এস আলমের হাতে দিয়েছিল। এখন একই কাজ হচ্ছে, তবে লোক আলাদা। এ বিষয়ে আমার প্রতিবাদের ভাষা নেই। ঘৃণা প্রকাশ করার কোনো ভাষা নেই। যাদের ওপরে এত বড় আমানত, তারা খেয়ানত করছে, এটার বিচার আল্লাহর ওপর দিলাম।”
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, “বেসরকারিতে রিফাইনারি করার জন্য এখনো পর্যন্ত সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এসপিএল আগেও আবেদন করেছিল। যে-ই আবেদন করবে, তারটাই মিটিংয়ে যাবে। কোনো টেন্ডার হবে না। যাদের ফ্যাসিলিটিজ আছে, তাদের আবেদন বিপিসিতে পাঠানো হবে। অন্যদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।”
ইআরএল-২ প্রকল্পের বিলম্বের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি সঠিক নয়। ইআরএল-২ প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে আরও তিন-চার বছর লাগবে। এখনো ডিপিপি অনুমোদন হয়েছে।”
অন্তর্বর্তী সরকার যাওয়ার আগে বেসরকারি রিফাইনারি অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। আমরা তড়িঘড়ি করে কোনো মিটিং করার জন্য বিপিসিকে বলিনি। এখানে আমার কোনো প্রভাব নেই।
সূত্র: জাগো নিউজ

