জয়পুরহাটের কালাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের নকল কপির জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়িয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী মোছাদ্দেকুল ইসলাম চঞ্চল।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, দুই দিন আগে তিনি কালাই অফিসে একটি দলিলের নকল কপি সংগ্রহ করতে যান। সরকারি ফি ৮৫০ টাকা হলেও, দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহরার জিন্নাতুল ফরহাদ তার কাছে ১ হাজার ৬৫০ টাকা দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে তাকে কপি সরবরাহ করা হয়।
চাঞ্চল্যকর বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগী জেলা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। জেলা রেজিস্ট্রার জানান, ‘সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়িয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা সামিউল হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৮৫০ টাকায় নকল কপি দেওয়া সম্ভব নয়। অতিরিক্ত অর্থ মূলত কম্পিউটার কম্পোজ ও স্ট্যাম্প খরচের জন্য নেওয়া হয়। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহুরীরা নিজস্ব কম্পিউটারে দলিল কম্পোজ করেন এবং নকল কপি প্রায় ৫০ টাকায় প্রিন্ট করা যায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কালাই মডেল মসজিদ ও একটি ডায়াবেটিক সমিতির নামে প্রতিটি দলিলের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক ও ভুক্তভোগীর দাবি, বণ্টন দলিলের সরকারি ফি দলিলভেদে ১ থেকে ৪ হাজার টাকা হলেও বাস্তবে প্রতি বিঘায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সামিউল ইসলাম বলেন, “নকল কপিতে সরকারি ফি ৮৫০ টাকা ঠিক আছে। কিন্তু স্ট্যাম্পের খরচ বেশি। ২০০ টাকার স্ট্যাম্প কিনতে হয় ২৮০ টাকায়। তাই কম টাকায় কপি দেওয়া সম্ভব নয়।”
জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল বারী বলেন, “দলিলের নকল কপি সরবরাহে সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সূত্র: জাগো নিউজ

