গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলের পর্যটন ও এভিয়েশন খাতে। মাত্র ২০ দিনের মধ্যে পর্যটন খাতে আর্থিক ক্ষতি ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, জানিয়েছে আনাদোলু নিউজ এজেন্সি।
বিশেষত সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আকাশপথ বন্ধ ও পর্যটন কেন্দ্র স্থবির হওয়ায় এই দেশগুলোর অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক পর্যটকের প্রতিদিনের ব্যয় অন্তত ৬০ কোটি ডলার কমেছে।
হিসাবটি শুধু পর্যটকের সরাসরি খরচের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এয়ারলাইনসের পরিচালন ক্ষতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব বা বাতিল হওয়া ফ্লাইট হিসাবের বাইরে থাকায় প্রকৃত ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সংঘাতের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের ৩,৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আকাশপথে নিরাপত্তাহীনতার কারণে লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স-কেএলএমসহ ইউরোপীয় এয়ারলাইনসগুলো এপ্রিল পর্যন্ত এ অঞ্চলে কার্যক্রম স্থগিত করেছে। তুরস্কের টার্কিশ এয়ারলাইনস ও পেগাসাসও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। এমিরেটস ও ইতিহাদ সীমিত পরিসরে বিমান চালাচ্ছে।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, যা ২০২৫ সালে ৯ কোটি ৫২ লাখ যাত্রী পরিচালনা করে বিশ্ব রেকর্ড করেছিল, বর্তমানে কার্যক্রম স্থগিত। কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রানজিট ফ্লাইটও প্রায় বন্ধ।
পর্যটকরা নিরাপত্তার আশঙ্কায় বুকিং বাতিল করছেন। শুধু প্রথম সপ্তাহেই দুবাইয়ের হোটেলগুলোতে ৮০ হাজারের বেশি রুম বাতিল হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের পর্যটন কেন্দ্রগুলোও জনশূন্য হয়ে গেছে। অনেক হোটেল সামরিক বাহিনীর জন্য ব্যবহার হচ্ছে।
২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য পর্যটন খাত থেকে ২০৭ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সংঘাত এই লক্ষ্যকে অনিশ্চিত করে দিয়েছে। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর মেগা প্রকল্পের নির্মাণ ও প্রচারও এই পরিস্থিতিতে ধীর হয়েছে। পবিত্র মক্কা ও মদিনাতেও দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

