গত জানুয়ারি মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে গত দুই যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ডিসেম্বরের শেষের ৬.১০ শতাংশের তুলনায় জানুয়ারিতে ঋণ বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.০৩ শতাংশে। এই সময়ে ঋণস্থিতি কমেছে প্রায় ছয় হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।
ঋণ বৃদ্ধিতে এই ধীরগতির প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার খারাপ পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা এবং বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা উল্লেখ করছেন। ব্যবসায়ীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার কমানোর দাবি জানাচ্ছেন, তবে সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত সুদহার কমানোর নীতিতে অনড় ছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সুদহার কমানোর প্রস্তাব দেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা বিবেচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি শেষে বেসরকারি খাতের ঋণস্থিতি ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকায় নেমেছে। ডিসেম্বর শেষে ঋণ ছিল ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ঋণ কমেছে ছয় হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। গেল বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ঋণ ছিল ১৬ লাখ ৮০ হাজার ১১০ কোটি টাকা, ফলে এক বছরে ঋণ বেড়েছে এক লাখ এক হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, ঋণের হিসাবের সঙ্গে সুদও যোগ হয়। তাই প্রকৃতপক্ষে ঋণ না বাড়লেও সুদ সংযোজনের কারণে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। এছাড়া ব্যাংকগুলো ডিসেম্বরভিত্তিক আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করতে আদায় জোরদার করে, যার প্রভাবে জানুয়ারিতে ঋণ বিতরণ কম হওয়ায় ঋণস্থিতি কিছুটা কম দেখাচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন মুদ্রানীতিতে আগামী জুন নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ৮.৫০ শতাংশের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এর আগে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাক্কলিত হার ছিল ৭.২০ শতাংশ, তবে বাস্তবে ৬.১০ শতাংশই অর্জিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর আগে কখনও বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধির হার এত কম দেখা যায়নি। করোনার সময় ২০২০ সালে বিনিয়োগ স্থবির থাকলেও ঋণ বৃদ্ধির হার ৭.৫০ শতাংশের ওপরে ছিল।

