মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব মোকাবিলায় গতকাল রোববার শ্রীলঙ্কা সরকার জ্বালানির দাম ২৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফা মূল্যবৃদ্ধি।
নতুন দামে প্রতি লিটার সাধারণ পেট্রল ৩১৭ রুপি থেকে বেড়ে ৩৯৮ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গণপরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম ৭৯ রুপি বাড়িয়ে ৩৮২ রুপি করা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহেও খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। শুধু দাম বাড়ানোই নয়, জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে সরকার কেনার পরিমাণেও সীমা নির্ধারণ করেছে।
সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সর্বশেষ এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে জ্বালানির ব্যবহার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমে আসতে পারে বলে তারা আশা করছেন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে আগেই সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা থেকেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সপ্তাহে চার কর্মদিবস চালুর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি যেখানে সম্ভব, সেখানেই বাসা থেকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের জেরে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা টানা চার সপ্তাহে গড়িয়েছে। বিশ্বে মোট তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ বাড়ছে।
শ্রীলঙ্কা পুরোপুরি আমদানি-নির্ভর দেশ হিসেবে এই সংকটে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে তাদের শোধনাগারে ব্যবহার করা হয়।
সরকার সতর্ক করেছে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ২০২২ সালে বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে পড়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণখেলাপি হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পায় দেশটি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হলে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

