বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের আর্থিক সহায়তা গত এক যুগে উল্লেখযোগ্য হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বিশেষ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই সহায়তা ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
ভারতের লোকসভায় দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪–১৫ অর্থবছর থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশকে মোট প্রায় ১ হাজার ৫৫৭ কোটি রুপি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এই হিসাবের মধ্যে লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) অন্তর্ভুক্ত নয়।
পাঁচ বছর আগেও যেখানে বছরে ২০০ কোটি রুপির বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫ কোটি রুপিতে। এটি গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং লোকসভায় লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক। উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মসূচিতে ভারত দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা দিয়ে আসছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪–১৫ অর্থবছরে প্রায় ১৯৮ কোটি রুপি সহায়তা দেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে তা বাড়তে বাড়তে ২০২১–২২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২১৯ কোটি ৫৩ লাখ রুপিতে পৌঁছায়। কিন্তু এর পর থেকেই সহায়তা কমতে শুরু করে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৫৯ কোটি রুপিতে।
ওই সময় দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে আর্থিক সহায়তার ওপর।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ২৫ কোটি রুপি সহায়তা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে ভারতীয় সহায়তা প্রায় আট ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।
এদিকে, এলওসি বা ঋণ সহায়তার ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১০, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনটি পৃথক চুক্তির আওতায় ভারত বাংলাদেশকে মোট ৭৩৬ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ছাড় হয়েছে মাত্র ২১০ কোটি ডলার।
এই ঋণ মূলত অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে ব্যয় হচ্ছে। প্রথম এলওসির ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে ১২টি শেষ হয়েছে, বাকি তিনটি চলমান। দ্বিতীয় এলওসির ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র দুটি সম্পন্ন হয়েছে, অধিকাংশ এখনও বাস্তবায়নাধীন। তৃতীয় এলওসির ১৩টি প্রকল্পের বেশিরভাগই এখনও চলমান বা প্রস্তাবনা পর্যায়ে রয়েছে।
ইআরডির এক কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণ ছাড়ে কিছুটা ধীরগতি দেখা দেয়। তবে নতুন সরকার আসার পর প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ ছাড়ের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

