ঈদের ছুটির পর ঢাকায় ফিরেছেন মোটরসাইকেল রাইডার আব্দুল্লাহ রাফি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শ্যামলীর বাসা থেকে বের হয়ে তিনি তার নিয়মিত কাজের জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন। সাড়ে ৯টায় আসাদগেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে রাফির সঙ্গে কথা হয়।
রাফি জানান, তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে তার তিন সদস্যের পরিবারকে চালান। গতকাল সকালেই মোটরসাইকেলে অল্প পরিমাণ তেল নিয়ে বের হয়েছিলেন। তবে পাম্পে পৌঁছাতেই বলা হয়, তেল নেই। পাম্পের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুপুর ২টার পর ডিপো থেকে তেল এলে প্রদান করা হবে। রাফি আরও বলেন, “ঈদের আগে থেকেই বিভিন্ন পাম্পে তেল নিতে ঘুরতে হয়েছে, এখনও হচ্ছে।” সোনার বাংলা পাম্পের সামনে তখন শতাধিক মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। পাশাপাশি ২০–২৫টি প্রাইভেটকার, দুটি মিনি ট্রাক এবং একটি বাসও তেলের জন্য অপেক্ষা করছিল।
রাফি অভিযোগ করেন, “রাজধানীর অধিকাংশ পাম্পে তেল নেই। তেল সংগ্রহ করতে পুরো দিন চলে যাচ্ছে। এই অবস্থায় তেলের পয়সা তুলেই সংসারের খরচ চালানো অসম্ভব।” তিনি যোগ করেন, সরকার বলছে পর্যাপ্ত মজুত আছে, কিন্তু বাস্তবে পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
শুধু সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন নয়, বিপরীত দিকে বন্ধ থাকা তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকেও লাইন দীর্ঘ। বিকেলের দিকে ডিপো থেকে তেল আসার অপেক্ষায় অসংখ্য যানবাহন দাঁড়িয়ে আছে। কারণ লাইন ছেড়ে বের হলে আবার ঢোকা সম্ভব নয়। অন্য কোনো পাম্পেও তেল নেই, তাই রাজধানীর মানুষ বাধ্য হয়ে পুরো দিন তেলের লাইনে কাটাচ্ছে।
সরকার জানাচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে। তবে সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত সংগ্রহের প্রবণতা বা ‘প্যানিক বায়িং’ এবং গুজবের কারণে পাম্পগুলোতে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত চাহিদার চেয়ে বেশি তেল কেনার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পাম্প মালিকরা সরকারের ব্যাখ্যা মানছেন না। তারা অভিযোগ করছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর প্রতিটি পাম্পে দীর্ঘ লাইন এই কারণে লেগেই আছে। কখনো কখনো ক্রেতারা উত্তেজিত হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
ঢাকার তিনটি পাম্পের মালিক জানান, ৯ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার গাড়িতে দেওয়া হচ্ছে মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার লিটার তেল। ১৩ হাজার লিটারের গাড়িতে দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার লিটার। ঢাকার একমাত্র ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ছাড়া অন্য সবাই কম তেল পাচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলছেন, মাঠের সংকট মূলত কৃত্রিম। তিনি বলেন, “আমাদের ডিপোগুলো ‘হরমুজ প্রণালি’ মতো। এগুলো পুরোপুরি খোলা হলে তেলের ঘাটতি থাকবে না। একমাত্র ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন তাদের চাহিদার পুরো পরিমাণ ডিপো থেকে সরবরাহ পায়। অন্য পাম্পগুলোতে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল যাচ্ছে।” তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “সরকার বাড়তি সরবরাহের কথা বলছে, কিন্তু সেই তেল কোথায় যাচ্ছে?”
সাময়িক ঘাটতির ফলে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছে। সরকারি তথ্য ও মাঠের বাস্তবতার মধ্যে ফারাক তৈরি হওয়ায় তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, যা ক্রেতাদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে এবং সাময়িক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানিয়েছেন, যারা আগে দু-তিন লিটার তেল নিতেন, এখন তারা মোটরসাইকেলের ট্যাংকি পুরো ভরে তেল নিচ্ছেন।
একটি মোটরসাইকেলের ট্যাংকি সাধারণত ৯–১৩ লিটার ধারণক্ষমতা রাখে। এর মানে, এখন ক্রেতারা সর্বোচ্চ তিনগুণ বেশি তেল কিনছেন। এই চাহিদার বৃদ্ধি গত ১০–১৫ দিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের মোটরসাইকেলের সংখ্যা কোটি খানেক হলে, হঠাৎ এই পরিমাণ চাহিদা বাড়ার ফলে পাম্পগুলোতে তেল পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি আরও সংকটময়। কাবুল জানান, ডিপো থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ হচ্ছে, তাতে জেলা শহরগুলো থেকে আসা যানবাহনের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তাই অনেক পাম্প মালিক বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন। সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে পুনরায় খোলা হবে।
চট্টগ্রামের পাম্পগুলোতেও ঈদের পর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। নগরীর গণিবেকারি এলাকার কিউসি ফিলিং স্টেশন ও ওয়াসা মোড় সংলগ্ন এসএইচ ফিলিং স্টেশনে বাইকার এবং অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। প্রাইভেট কার, সিএনজি ও ম্যাক্সিমা গাড়িও লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। এর ফলে পরিবহন খাতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে গণপরিবহন—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়েছে। নগরজীবনের ব্যস্ত ছন্দের মধ্যে এই জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে
ঈদের পর রাজধানী এবং অন্যান্য বড় শহরের পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন প্রতিদিনের দৃশ্য হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, গ্রাহকদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে। তবে তিনি বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম আপাতত বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
মন্ত্রী বলেন, “হঠাৎ করে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পেট্রোল পাম্পে পড়ছে। আমরা যেভাবে তেল দিই, সেই নিয়ম ভেঙে পড়েছে। গ্রাহক বেড়ে গেছে, তাই স্বাভাবিকভাবে লাইন থাকবে। মানুষকে বলেছি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল নেওয়া উচিত নয়। তেল আছে, আপনারা পাবেন।” তিনি রেশনিং নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও সম্ভব নয় বলে জানান।
এদিকে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আন্তর্জাতিক मुद्रा তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে আইএমএফের স্প্রিং মিটিং, যেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে। এছাড়া আইএমএফ থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ১৩০ কোটি ডলার পাওয়ার বিষয়ে বোর্ডে চূড়ান্ত আলোচনা হবে এবং আশা করা হচ্ছে জুলাইয়ে ঋণের কিস্তি পাওয়া যাবে।
অর্থমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, তেল সংকটের মুহূর্তে সরকার একা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। তাই দেশের মানুষকে সংযমী ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন, চলমান পরিস্থিতিতে দেশের পরিবহন ও গার্মেন্টস খাতে কোনো সমস্যা হয়নি। তেলের অভাবে কোনো পরিবহন বন্ধ হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গ্রাহকরা এখন মোটরসাইকেলের ট্যাংকি পুরো ভরে তেল নিচ্ছেন, যা আগের তুলনায় সর্বোচ্চ তিনগুণ বেশি। মাত্র ১০–১৫ দিনের মধ্যে এই চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে তেল পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। রাজধানী ও জেলা শহরের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, ডিপো থেকে কম সরবরাহ এবং অতিরিক্ত চাহিদার কারণে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রামেও ঈদের পর পরিস্থিতি একইরকম। নগরীর কিউসি ফিলিং স্টেশন ও ওয়াসা মোড় সংলগ্ন এসএইচ ফিলিং স্টেশনে বাইকার, প্রাইভেট কার, সিএনজি এবং ম্যাক্সিমা গাড়ি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশেও প্রভাব পড়েছে।
স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় হঠাৎ বেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত চাহিদা এবং কৃত্রিম সংকট মিলিত হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য তেলের লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা বাধ্যত করেছে। সরকারি দাবি অনুযায়ী, তেল আছে, কিন্তু সংযমী না হলে প্রতিদিন পাম্পে লাইন অব্যাহত থাকবে।
দেশের তেলের সরবরাহ ও মজুতের অবস্থা
দেশের তেলের মজুত বর্তমানে স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের যোগ্য। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ডিজেলের মোট সংরক্ষণ ক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। গতকাল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার টন, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ২৯ শতাংশ। এই মজুত দিয়ে প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। গত ১ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টন। তার মানে দৈনিক গড় বিক্রি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার টনের কাছাকাছি। গত বছরের একই সময়ে দৈনিক বিক্রি ছিল সাড়ে ১২ হাজার টনের মতো।
অকটেনের সংরক্ষণ ক্ষমতা ৫৩ হাজার ৬১৬ টন। বর্তমানে মজুত আছে প্রায় ১১ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। পেট্রোলের মোট সংরক্ষণ ক্ষমতা ৩৭ হাজার ১৩ টন। এর মধ্যে মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন, যা দিয়ে প্রায় ১১ দিনের সরবরাহ বজায় রাখা যাবে।
ফার্নেস তেলের মজুত ৭০ হাজার ৮৩৩ টন, যা দিয়ে প্রায় ২৯ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। জেট ফুয়েলের মজুত ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন, যা দিয়ে ২৩ দিনের সরবরাহ চালানো যাবে। কেরোসিনের মজুত ৮ হাজার ৫৭১ টন, যা দিয়ে ৪৬ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। মেরিন ফুয়েল আছে প্রায় দেড় হাজার টন, যা দিয়ে ৪৪ দিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
এ ছাড়া দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে। দৈনিক গড় সাড়ে ৪ হাজার টন শোধন ক্ষমতা বিবেচনায়, এই মজুত দিয়ে আরও ১৭–১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। মজুত পরিস্থিতি দেখে বোঝা যায় যে দেশের জ্বালানি তেলের অভাব নেই। তবে সাময়িক চাহিদা বৃদ্ধি, প্যানিক বায়িং এবং বিতরণ ব্যবস্থার অসামঞ্জস্যের কারণে পাম্পে লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। অর্থাৎ বাজারে সংকটের চিত্র মূলত সাময়িক এবং কৃত্রিম।
আগামী দুই মাসের পরিকল্পনা
দেশে তেলের সরবরাহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও বড় ধরনের সংকট এখনো নেই। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এপ্রিল ও মে মাসের জন্য প্রাথমিক আমদানি সূচি তৈরি করেছে। এপ্রিলে সমুদ্রপথে ১৪টি জাহাজ এবং পাইপলাইনে ৩টি পার্সেলের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৫০ হাজার টন ফার্নেস তেল আনা হবে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং পাইপলাইনে ২০ হাজার টন সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।
দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি। সারা দেশে এসব প্রতিষ্ঠান প্রায় আড়াই হাজার ফিলিং স্টেশনে তেল পৌঁছে দেয়। মে মাসে ১৭টি জাহাজে সাড়ে ৩ লাখ টন ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আসার সূচি ঠিক করা হয়েছে, তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো চূড়ান্ত মত দেয়নি। সরকার বিকল্প উৎস থেকেও তেল কেনার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে রাশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং স্পট মার্কেট থেকে। এছাড়া ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির সম্ভাবনা বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চের প্রথম ২২ দিনে বন্দরে মোট ২৫টি জাহাজ থেকে এলএনজি, এলপিজি ও বিভিন্ন ধরনের তেল খালাস সম্পন্ন হয়েছে। আরও দুটি জাহাজ ২৫ মার্চ বা এপ্রিলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দেশে এখনো বড় ধরনের তেল সংকট তৈরি হয়নি। তবে অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধি, জাহাজ আসতে বিলম্ব, সীমিত মজুত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন কালবেলাকে বলেন, “অতিরিক্ত মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতা বন্ধ করতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।”
পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণ মূলত হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সাময়িক ব্যাঘাত। তাই সাধারণ মানুষকে সংযমী হতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে সরকার ও বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানাচ্ছেন।

