চট্টগ্রাম বন্দরে ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলেছে। বন্দরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনে প্রায় ২৫ লাখ কার্গো এবং প্রায় ৫৫ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, “ঈদের ছুটির মধ্যেও বন্দর তার অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রেখেছে। পূর্বে গৃহীত পরিকল্পনামূলক সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই সফলতা এসেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল পণ্য সরবরাহের কোনো বিঘ্ন না ঘটানো।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, রমজান ও ঈদ ছুটিকালীন সময়ে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্স চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি সাইড ও বর্হিনোঙর এলাকায় পণ্য খালাস ও পর্যবেক্ষণ তদারকি করেছে। তেল সংকটকালীন সময়ে অগ্রাধিকার বার্থিং এবং নেভিগেশনাল সহায়তার মাধ্যমে বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, সাত দিনে বন্দরে মোট ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি ছিল ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ মেট্রিক টন। ১৮ মার্চ একদিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।
কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে মোট ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইইউ’স প্রক্রিয়াজাত হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি কনটেইনার ২৮ হাজার ৯৬১ টিইইউ’স এবং রপ্তানি কনটেইনার ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইইউ’স। ১৮ মার্চ সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৬১ টিইইউ’স কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। এই সময়ে মোট ৬৪টি জাহাজ বন্দরে বার্থিং ও হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ মার্চ ১৪টি এবং ২৩ মার্চ ১২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক মনিটরিং ও সমন্বয়ের কারণে জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য দিনে এসেছে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরো দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে।
২৪ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৪৩ হাজার ২০০ টিইইউ’স কনটেইনার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ২৫৩টি এফসিএল, ২ হাজার ৬৫৪টি ডিপো এবং ১ হাজার ৬৫২টি খালি কনটেইনার।

