চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ৪৭৮ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা ধরে এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ডলারের চাপের মধ্যেও প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ১৯ মে একদিনেই দেশে এসেছে প্রায় এক হাজার ৯০২ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকার রেমিট্যান্স। যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় দৈনিক প্রবাহ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এবার প্রবৃদ্ধির হার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা, হুন্ডির বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সামগ্রিক হিসাবেও বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ১ জুলাই থেকে ১৯ মে পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে তিন হাজার ১৮১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৬৩৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশের আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং ডলারের রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে রেমিট্যান্স এখন সবচেয়ে বড় ভরসাগুলোর একটি। বিশেষ করে রপ্তানি আয়ে ওঠানামার সময়ে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নয়, এই অর্থের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রবাসী আয়ের একটি বড় অংশ এখনো ভোগব্যয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। উৎপাদনমুখী খাত ও বিনিয়োগে এই অর্থের ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতিতে আরও টেকসই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্য, বৈদেশিক বাণিজ্য ও ডলারের দামের অনিশ্চয়তার মধ্যে রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি সরকার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

