Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, মার্চ 13, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বাজেট এলো তাতে জনগণ কি পেল? 
    অর্থনীতি

    বাজেট এলো তাতে জনগণ কি পেল? 

    কাজি হেলালজুন 18, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    দারিদ্র্য নয়, বৈষম্যই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    জাতীয় বাজেট একটি দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা। প্রতিবছরই বাজেট আসে নানা প্রতিশ্রুতি, লক্ষ্য ও পরিকল্পনার পসরা নিয়ে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই বাজেটের বাস্তব উপকারিতা কতটা পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে? আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের বাজেট যদি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর না হয়, তবে সেটি কেবল কাগুজে পরিকল্পনাই থেকে যায়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট এসেছে এমন এক সময়, যখন দেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে। বৈশ্বিক মন্দার ছায়া, মুদ্রাস্ফীতি, রিজার্ভের সংকট, আর জীবিকা প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে,পণ্যের দাম, কর্মসংস্থান সংকট ও আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা, টাকার মান হ্রাস এবং বৈদেশিক ঋণের চাপ—সব মিলিয়ে এই বাজেট যেন এক কঠিন পরীক্ষার খাতা। প্রশ্ন একটাই—এই বাজেট সাধারণ জনগণের জীবনে কী পরিবর্তন আনবে?
    বাজেটের আকার ও কাঠামো: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে এবারের বাজেট গঠন করা হয়েছে।
    এই বাজেটের কাঠামো প্রধানতঃ কয়েকটি খাতে বিভক্ত যেমন: সামাজিক অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, সাধারণ সেবা, সুদ পরিশোধ, পিপিপি প্রকল্প, ভর্তুকি ও অন্যান্য দায় এবং ঋণ পরিশোধ। মোট বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে সামাজিক অবকাঠামো খাতে, যার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত অন্তর্ভুক্ত। সাধারণ সেবা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে প্রশাসনিক খরচ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত।
    ভৌত অবকাঠামো যেমন:  পরিবহন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও নগর উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে, যাতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালু রাখা যায়। এছাড়া সুদ পরিশোধ, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, পিপিপি প্রকল্পের দায় মেটানো এবং নানাবিধ ভর্তুকির জন্যও বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
    তবে এই বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এর বড় একটি অংশ ঋণনির্ভর অর্থাৎ বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে ভবিষ্যতে ঋণের চাপ বাড়ার আশঙ্কাও থাকছে। সামগ্রিকভাবে বাজেটের কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি একটি ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হলেও সামাজিক সুরক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির যে প্রত্যাশা ছিল, তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি বলেই বিশ্লেষকদের মত।
    মূল চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের: বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে জ্বলন্ত সমস্যা দু‘টি—অবিরাম মূল্যস্ফীতি এবং দ্রুতগতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। এই দু‘টি বিষয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সাধারণ জনগণের ওপর, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের জীবনে। বাজারে গিয়ে একজন গৃহিণী বা চাকরিজীবী মানুষ এখন প্রতিদিনই বুঝতে পারছেন, আগের চেয়ে কম টাকায় আগের মতো জিনিস কেনা আর সম্ভব নয়।
    অর্থনীতির ভাষায় মূল্যস্ফীতি মানে হলো—পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া। কিন্তু বাস্তব জীবনে এর অর্থ দাঁড়ায়—একই আয় দিয়ে আগের মতো জীবন যাপন করা আর সম্ভব না থাকা। বর্তমানে বাংলাদেশে চাল, ডাল, তেল, সবজি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পরিবহন ভাড়া এমনকি ওষুধপত্র ও শিক্ষা খরচও অনেক বেড়ে গেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাস শেষে হাতে কিছুই থাকছে না, বরং অনেকে প্রয়োজনীয় চাহিদাও পূরণ করতে পারছেন না।
    সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করলেও বাস্তবে বর্তমানে তা ৯ শতাংশের কাছাকাছি। এর মানে হচ্ছে—সরকারের পূর্বাভাস ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে এক বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলার সংকট, আমদানি নির্ভরতা এবং দুর্বল ভর্তুকি নীতির কারণে এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
    অন্যদিকে এবারের বাজেটে ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। অর্থাৎ গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারের মতো খাতে সরকারের আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ার অর্থ—এসব খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কাঁধেই চাপবে। ফলে মূল্যস্ফীতির এই বাস্তবতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
    বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষ, দিনমজুর, ছোট চাকরিজীবী, পেনশনভোগী এবং স্বল্প আয়ের গৃহস্থদের জন্য এই বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। তাদের জীবনে খাদ্য ও চিকিৎসা হয়ে উঠছে ব্যয়বহুল প্রয়োজন, আর শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদাও যেন এক ধরনের বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ যথেষ্ট কি?

    বাজেট মানেই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। এবারের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও বলা হয়েছে—জনকল্যাণ, বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, কথার সঙ্গে কাজের মিল খুব একটা নেই। কারণ দুই খাতেই বরাদ্দ বেড়েছে অতি সামান্য হারে, যা বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় হতাশাজনক।

    শিক্ষা খাতে এবার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। এটি জাতীয় বাজেটের মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ এবং জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৭২ শতাংশ। অথচ ইউনেসকো সুপারিশ করে—একটি দেশের উচিত জাতীয় বাজেটের ১৫-২০ শতাংশ এবং জিডিপির ৪-৬ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ দেওয়া। সেই তুলনায় বাংলাদেশের এই বরাদ্দ সুপারিশিত মাত্রার অনেক নিচে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।
    শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ গেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে—৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। আগের বছর যা ছিল ৪৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমিয়ে আনা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকায়, যা আগের বছর ছিল ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। অথচ প্রাথমিক শিক্ষাই হলো একটি শিশুর ভবিষ্যৎ ভিত্তি তৈরির প্রথম ধাপ। এই পর্যায়ে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
    সরকার কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার ১৯ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার কথা বললেও, বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের কাঠামোগত ও প্রশিক্ষণভিত্তিক বিনিয়োগ দরকার ছিল, তা বাজেটে স্পষ্ট নয়। মাদ্রাসাগুলোর এমপিওভুক্তির জন্য ৭২৮ কোটি টাকা এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির জন্য ২ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কিছুটা ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও সামগ্রিক ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়।
    স্বাস্থ্য খাতের দিকেও তাকালে একই চিত্র দেখা যায়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ৫০০ কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ বরাদ্দ বৃদ্ধির হার মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ। করোনা-পরবর্তী সময়ে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ, দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ—এই সব গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা মাথায় রেখেও বরাদ্দে দৃশ্যমান কোনো বড় পরিবর্তন হয়নি।
    বাজেটে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ৪ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় সবাইকে আনতে চাওয়া হয়েছে, কিন্তু এর জন্য কাঠামোগত প্রস্তুতি, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে।
    সর্বোপরি বলা যায়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের দুই মূল স্তম্ভ। এই দু‘টি খাতে বাস্তব চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ এতটাই সীমিত যে, কেবল ঘোষণায় জনস্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়। শিক্ষাবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি এই অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হবে—তাও নজরদারির আওতায় আনতে হবে। না হলে এই খাতগুলোতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কেবল পরিকল্পনার ফাইলে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
    উন্নয়ন খাত বনাম বাস্তবতা: প্রতিটি বাজেটে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি থাকে এবং এবারের বাজেটও তার ব্যতিক্রম নয়। বরাবরের মতো এবারও উন্নয়ন বাজেটের বড় একটি অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে অবকাঠামো খাতে। পদ্মা সেতু পরবর্তী দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, মেট্রোরেল প্রকল্পের বিস্তৃতি, নগর ও আন্তঃনগর সড়ক উন্নয়ন, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ—এসব বড় প্রকল্পে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
    নিঃসন্দেহে এই ধরনের মেগা প্রকল্পগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষতঃ মেট্রোরেলের সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট কিছুটা কমবে এবং কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে, যা সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়াবে।
    তবে প্রশ্ন হলো—এই উন্নয়ন কতটা সাধারণ মানুষের জীবনকে এখনই ছুঁয়ে যাচ্ছে? বাস্তবতা হলো দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী এখন প্রতিদিনের জীবনযাত্রার খরচ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মান, চাকরি পাওয়া কিংবা নিরাপদ বাসস্থানের মতো মৌলিক সমস্যার সঙ্গে লড়ছে। এই খাতগুলোতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেওয়ার মতো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ এবারের বাজেটে খুব বেশি নেই।
    উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকলেও একই সঙ্গে নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্কুল-কলেজের বাস্তব চাহিদা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। অর্থাৎ একটি অংশে বড় পরিসরে উন্নয়নের প্রচেষ্টা চললেও, অধিকাংশ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা এখনও অবহেলিত রয়ে যাচ্ছে।
    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন মেগা প্রকল্পের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পরিসরের নাগরিক সুবিধা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নয়নের দিকেও একইভাবে নজর দেওয়া জরুরি। কারণ উন্নয়নের মূল অর্থই হলো—জনগণের জীবন সহজ ও নিরাপদ করা।
    কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি: বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তুলেছে কৃষি ও গ্রামীণ জীবনব্যবস্থা। দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখনও কৃষিনির্ভর জীবনযাপন কর।যেখানে ফসল উৎপাদন, পশুপালন, মৎস্যচাষ ও কুটির শিল্প মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উপায়। তাই বাজেটে কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল এবং এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানোও হয়েছে।
    ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষিসংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বরাদ্দ বাস্তবে কৃষকের হাতে কতটা পৌঁছাবে? ডলার সংকটের কারণে সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্রপাতির দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েই চলেছে। একইসঙ্গে বাড়ছে জ্বালানির দাম। ফলে কৃষক যেন এক অদৃশ্য ফাঁদের মধ্যে আটকা পড়েছেন—উৎপাদন করছেন, কিন্তু লাভের মুখ দেখছেন না।
    বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য, সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব কৃষকের প্রাপ্য ন্যায্যমূল্য কেড়ে নিচ্ছে। এর ফলে অনেক কৃষকই কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
    বিশেষজ্ঞরা বলছেন বরাদ্দ বাড়ানো যথেষ্ট নয়—এই খাতে প্রয়োজন পরিকল্পিত সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়ন। কৃষকের কাছে ভর্তুকি যেন সরাসরি পৌঁছে যায়, সে জন্য ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকগণও সহজে পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ নীতিমালা এবং বিপণন ব্যবস্থায় সরকারি হস্তক্ষেপ বাড়ানো দরকার।
    জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত যেমন: খরা, বন্যা ও অকাল বৃষ্টির প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের জন্য শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাও আজ সময়ের দাবি। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে কেবল ফসল নয়—ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, মৎস্য, ডেইরি ও পোলট্রি খাতকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই খাতগুলো শুধু অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ায় না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান তৈরি করে দারিদ্র্য হ্রাসেও ভূমিকা রাখে।
    সব মিলিয়ে কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি জরুরি এই বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং কৃষকবান্ধব বাস্তবমুখী পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। তা না হলে কাগজে উন্নয়নের ঘোষণা থাকলেও মাটির কাছাকাছি মানুষের জীবনে তার ছোঁয়া পৌঁছাবে না।

    আয়কর সীমা পর্যাপ্ত কি?

    এই বাজেটে সঞ্চারিত হয়েছে করমুক্ত আয়ের সীমানা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অতিমূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ করদাতারা আশা করছিলেন করমুক্ত সীমা বাড়বে। কিন্তু বাজেটে তা হয়নি — বর্তমান করমুক্ত সীমানা রাখা হয়েছে টাকায় ৩ দশমিক ৫০ লাখ, যা আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য অপরিবর্তিত থাকবে। তবে ভবিষ্যৎ দুই অর্থবছরের (২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮) জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব আছে।

    কর কাঠামোতে আনা হয়েছে একটি বড় পরিবর্তন, আয় নির্ধারিত কিছু উচ্চ স্তরের অংশে ৩০% করহার চালু হয়েছে। বাজেট অনুযায়ী যাঁদের বার্ষিক আয় ৩৮ দশমিক ৫০  লাখ টাকার উপরে, তাঁদের সেই সীমা অতিরিক্ত আয় থেকে ৩০% কর দিতে হবে । সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আয়ের জন্য প্রস্তাবিত করহার নিম্নে তুলে ধরা হলো (আয়কর অধ্যায় ভিত্তিক):
    • প্রথম ৩.৫০ লাখ টাকা: করমুক্ত
    • এরপরের ১ লাখ: ৫%
    • পরবর্তী ৪ লাখ: ১০% 
    • পরবর্তী ৫ লাখ: ১৫% 
    • পরবর্তী ৫ লাখ: ২০%
    • পরবর্তী ২০ লাখ: ২৫%
    • এর উপরে: ৩০%
    তাছাড়া বিশেষ প্রাত্যহিক শ্রেণির করদাতাদের জন্য আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে-
    • নারী ও ৬৫+ বয়সী করদাতা: ৪ লাখ
    • তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী: ৪.৭৫ লাখ
    • গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা: ৫ লাখ
    • প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবক: অতিরিক্ত ৫০ হাজার 
    এবং ‘জুলাই ২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানে’ আহত গেজেট মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে সুবিধাজনক নতুন সীমা ৫.২৫ লাখ ঘোষণা করা হয়েছে ।
    এছাড়া নতুন ট্যাক্সে ‘ফ্ল্যাট মিনিমাম ট্যাক্স’ নীতিও চালু হয়েছে, যাতে ২০২৬ থেকে সর্বনিম্ন করমুক্ততার দৃষ্টিতে ৫ হাজার টাকা কর ধার্য থাকবে ।

    ঋণনির্ভর বাজেটের ফলে ভবিষ্যতের চাপ বাড়ছে?

    ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ২ দশমিক ২৬ লক্ষ কোটি টাকা ঘাটতি দেখানো হয়েছে — যা দেশের বার্ষিক উৎপাদনের (জিডিপির) ৩ দশমিক ৬% । যদিও এটি আগের বছরের ২ দশমিক ৫৬ লক্ষ কোটি (৪.৬% জিডিপি) ঘাটতির তুলনায় কিছুটা কম, তবুও মহাকোষের পারদ চাপে থাকা দূর হয়নি ।

    এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ঋণ হিসেবে ১ দশমিক ২৫ লক্ষ কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ হিসেবে ১ দশমিক ০১ লক্ষ কোটি টাকার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে । অর্থাৎ যাঁরা আজকের উন্নয়ন ও খরচ সহায়তা ভোগ করছেন, তার ভার ভবিষ্যতের প্রজন্মকেই বহন করতে হবে।
    সরকার এই ঋণবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নিজের বিদ্যমান দায়-সুদ পরিশোধ করতে আগামী অর্থবছরে ১ দশমিক ২২ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যা বাজেটের মোট ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৪৪% । অর্থাৎ বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ অংশ শুধু দেনার চ্যান পরিশোধে যাবে — উন্নয়ন ও সেবার জন্য বরাদ্দের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।
    এছাড়াও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (ADP) বরাদ্দ কমিয়ে আনা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের অনুমোদিত ২ দশমিক ৬৫ লক্ষ কোটি টাকা থেকে তা কমিয়ে ২ দশমিক ৩০ লক্ষ কোটি করা হয়েছে, যা প্রায় ১৩ দশমিক ২% হ্রাস । এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতেও বরাদ্দ কমে গেছে — ফলে জনগণের মৌলিক সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প পিছিয়ে দাঁড়ালো।
    বিশ্লেষকদের মতে, ঋণনির্ভরতা কিছুটা হলেও সাময়িকভাবে ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে — তবে এতে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও ভবিষ্যতের চাপ বাড়ে। অভ্যন্তরীণ ঋণব্যাঙ্কের আগ্রাসী ঋণগ্রহণ অর্থনীতিতে তরলতা হ্রাস করে, আর বৈদেশিক ঋণ মুদ্রানীতি ও মুদ্রার উপরে চাপ সৃষ্টি করে  যা রিজার্ভ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলতে পারে ।
    সারসংক্ষেপে ঘাটতি কমানো হয়েছে, তবে ঋণগ্রহণের মাধ্যমে এটি মেটানো ভবিষ্যতের প্রজন্মের ওপর অর্থনৈতিক ভার চাপিয়ে দিচ্ছে। সুদ-ভুক্ত ব্যয়ের বোঝা ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমানোর সঙ্গে সরকারের বাজেট এখন বর্ধিত ঋণনির্ভর ও কম-ডিজিটাল, অন্যদিকে স্থিতিশীল সেবা নিশ্চিত করতেও অক্ষম।
    বাজেট কেবল সংখ্যার খেলা নয়—এটি একটি রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার, দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন। প্রতিবছরের মতো এবারও বাজেট এসেছে, বিশ্লেষণ হয়েছে খাতে খাতে বরাদ্দ, ঘোষণা হয়েছে নানা পরিকল্পনার। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই বাজেটে সাধারণ জনগণ কী পেল?
    মূল্যস্ফীতি যখন মানুষের নিত্যজীবনের স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে, বেকার যুবক যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা, শিক্ষার মান ও সুযোগ যখন বৈষম্যমূলক; তখন বাজেটে চোখে পড়ে বিশাল অঙ্কের ঘাটতি, কর বাড়ানোর প্রস্তাব, আর কিছু রাজনৈতিক ‘বড় প্রকল্পের’ মহাপরিকল্পনা। অথচ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো খাতগুলোতে কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ নেই বললেই চলে। এতে বোঝা যায় বাজেট জনজীবনের চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
    জনগণ চায় স্বস্তি—বাজারে গিয়ে চাল-ডাল কিনতে কষ্ট না হোক, সন্তান যেন ভালো স্কুলে পড়তে পারে, বেকার ছেলেটি যেন কাজ পায়, কৃষক যেন উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পায়। বাজেট যদি এই চাহিদার প্রতিফলন না ঘটাতে পারে, তবে তা সংখ্যার সৌন্দর্য হলেও বাস্তবের ব্যথা উপশম করতে পারে না। অতএব বাজেট বাস্তবমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনমুখী হতে হবে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা গুরুত্ব পেতে হবে। নইলে বাজেট এলেও জনগণ বারবার একই প্রশ্ন তুলবে—“বাজেট এল, কিন্তু আমরা কী পেলাম”?
    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    বিশ্বের শীর্ষ ধনী তালিকায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইলন মাস্ক

    মার্চ 12, 2026
    অর্থনীতি

    বৈশ্বিক গ্যাস সংকটে মার্কিন এলএনজি মুনাফা আকাশছোঁয়া

    মার্চ 12, 2026
    অর্থনীতি

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে আসিয়ান

    মার্চ 12, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.