হংকংয়ের অর্থনীতিতে আবাসন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খাতটি বর্তমানে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। আগামী বছরে খাতের মেয়াদোত্তীর্ণ বন্ডের হার প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছাবে, যা ঋণগ্রস্ত ডেভেলপার ও তাদের পাওনাদারদের জন্য নতুন সমস্যা সৃষ্টি করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিক্রির ধীরগতি ও সম্পত্তির দাম কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
চীনের আবাসন খাতের ঋণসংকটের পর, রোড কিং গত সপ্তাহে হংকংয়ের প্রথম ডেভেলপার হিসেবে বন্ড কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে বছরের শুরুতে এম্পেরর ইন্টারন্যাশনালও ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছিল। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, বাণিজ্যিক আবাসন খাতের পুনরুদ্ধার কঠিন হওয়ায় এবং নতুন মূলধনের উৎস সীমিত থাকায় আরও অনেক ডেভেলপার ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়তে পারে। হংকংয়ের জিডিপিতে আবাসন ও সম্পর্কিত খাতের অবদান প্রায় এক-চতুর্থাংশ। তাই খাতের ঋণখেলাপি শুধু অর্থনীতিই নয়, ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানসহ পাওনাদারদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।
আর্থিক তথ্য সরবরাহকারী এলএসইজির মতে, স্থানীয় ডেভেলপারদের বন্ড পরিশোধের পরিমাণ চলতি বছরের ৪২০ কোটি ডলার থেকে ২০২৬ সালে ৭১০ কোটি ডলারে বৃদ্ধি পাবে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড চ্যান মনে করছেন, আগামী এক-দুই বছরে আরও কিছু ছোট ডেভেলপার ঋণখেলাপি হতে পারে, কারণ ব্যাংকগুলোও ঋণ দেয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।
২০১৯ সালের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় বাণিজ্যিক সম্পত্তির মূল্য ৫০ শতাংশের বেশি কমেছে। এতে ডেভেলপারদের জন্য নগদ অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যদি ডেভেলপাররা দ্রুত সম্পত্তি বিক্রি (ফায়ার সেল) শুরু করে, তাহলে পুরো খাতের অবমূল্যায়নের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।
এদিকে হ্যাং সেং ব্যাংক চলতি বছরের প্রথমার্ধে ২৫০ কোটি হংকং ডলারের সমপরিমাণ প্রভিশন রেখেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২২৪ শতাংশ বেশি। একইভাবে, এইচএসবিসিও অভ্যন্তরীণ মডেল হালনাগাদ করার পর ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৮১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
তবে হংকংয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান এডি ইউয়ে জানিয়েছেন, দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত মূলধন ও প্রভিশন রয়েছে। কিছু ব্যাংক এখনো খেলাপি ঋণকে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হিসেবে ঘোষণা করছে না, যাতে পুরো খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

