জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে আয়কর কার্যালয় নিয়মিত করদাতাদের নোটিশ পাঠায়। সম্প্রতি এই নোটিশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় করদাতা মহলে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নোটিশ পাওয়া স্বাভাবিক আইন প্রক্রিয়ার অংশ। আতঙ্কিত হওয়া বা এড়িয়ে যাওয়াটা ঠিক নয়। বরং সময়মতো এবং সঠিকভাবে আইনি ধাপ অনুসরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সাধারণত রিটার্ন জমা না দেওয়া, পরিশোধিত করের পরিমাণ নিয়ে আপত্তি, বা অন্যান্য অসঙ্গতির কারণে নোটিশ জারি করা হয়। কর অফিস নোটিশ পাঠায় আপনার কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দেওয়া ঠিকানায়। ঠিকানা ভুল বা পুরোনো হলেও আইন অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া সম্পন্ন মনে করা হবে। ফলে নোটিশ না পেলে হলেও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
নোটিশ এলে করদাতাদের করণীয় ধাপগুলো হলো:
১. বিষয়বস্তু বোঝা: নোটিশে কী বলা হয়েছে তা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। কোন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বুঝুন।
২. প্রযোজ্য ধারা খুঁজুন: নোটিশটি কোন আইন বা ধারার ভিত্তিতে জারি হয়েছে তা নিশ্চিত করুন। এটি আয়কর, কাস্টমস বা ভ্যাট আইন হতে পারে।
৩. সময়মতো পদক্ষেপ: নোটিশের তারিখ খেয়াল রাখুন। বিশেষ করে উত্তর দেওয়ার শেষ দিন বা শুনানির তারিখ জানা জরুরি। নিজে পদক্ষেপ নিন অথবা আইনজীবীর সহায়তা নিন।
৪. প্রস্তুতি নিন: নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিন। প্রয়োজনীয় দলিলপত্র জমা দিন বা শুনানিতে উপস্থিত থাকুন।
৫. দলিলপত্র জোগাড় করুন: এনবিআরের চাহিদা অনুযায়ী সকল সনদ ও প্রমাণ জোগাড় রাখুন। নোটিশের প্রতিটি দাবির জন্য স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিন।
৬. পেশাদারের সহায়তা নিন: হিসাব ও আইন জটিল হলে একজন অভিজ্ঞ কর আইনজীবী বা পরামর্শকের সাহায্য নিন।
৭. অবহেলা করবেন না: এ ধরনের নোটিশকে হালকাভাবে নেবেন না। এটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা থেকে পাঠানো। অবহেলা করলে একতরফা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
৮. সময় বাড়ানোর সুযোগ: প্রস্তুতি সম্পূর্ণ না হলে কর অফিসে গিয়ে সময় বৃদ্ধি চাইতে পারেন। নির্দিষ্ট কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হবে। নোটিশ প্রাপ্তি আতঙ্কের বিষয় নয়, বরং এটি সতর্ক থাকার ও আইনি দায়িত্ব পালনের সুযোগ।

