রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তার নতুন সংকেত দেখা দিয়েছে, কারণ জ্বালানি খাতে মজুদের ঘাটতি বিদ্যুতের সঠিক সরবরাহে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারি শক্তি সংরক্ষণ ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি নিশ্চিত করার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের অভাব নতুন উদ্যোক্তাদের খাতে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।
গতকাল (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারে খাত সংশ্লিষ্টরা এই চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। প্রধান প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজা।
কেএম আলী রেজা বলেন, “বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও মুদ্রার অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জটিলতা বাড়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমেছে। ভূমি সংকট, অনিয়মিত উৎপাদন এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে ব্যাটারি শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের ঘাটতি বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।”
পরিকল্পনা সচিব এসএম শাকিল আখতার জানান, প্রকল্প পাস করানোর জন্য কাগজে লিখিত পরিকল্পনা বাস্তবে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় না। বরাদ্দ অনুমোদনের ক্ষেত্রে যেসব লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারিত থাকে, সেগুলোর বাস্তবায়নে আন্তরিকতার অভাব প্রকল্পের ফলপ্রসূতা ক্ষুণ্ণ করছে। তিনি বলেন, “একটি পুরো দলের ওপর দায় চাপানো ঠিক নয়। প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি নির্ধারণ না করলে ভবিষ্যতে কোনো উদ্যোগই কার্যকর হবে না।”
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিব এমএ আকমল হোসেন আজাদ, শিল্প ও শক্তি বিভাগের সচিব ড. মোখলেস উর রহমান, কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। তারা সবাই বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দায়িত্ব নির্ধারণের ওপর জোর দেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করান, যতক্ষণ না ব্যাটারি শক্তি সংরক্ষণ এবং প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়, ততক্ষণ দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা থাকবে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন উদ্যোক্তা বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নির্দিষ্ট দায়ী ব্যক্তির দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।

