যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) আবারও নীতি সুদহার কমিয়েছে। গত বুধবারের দ্বি-দিবসীয় বৈঠকের পর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদহার হ্রাস করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সুদহার এখন ৩.৫০–৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরে এটি তৃতীয়বারের মতো হ্রাস, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ফেডের এই সিদ্ধান্ত কেবল মার্কিন অর্থনীতির মধ্যেই প্রভাব ফেলে না; এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ে। সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীরা ফেডের পদক্ষেপ মনোযোগ দিয়ে দেখছেন।
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি কমেছে এবং মূল্যস্ফীতি কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ভোক্তাদের জীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফেড একমত হতে পারেনি, তবে তাদের সিদ্ধান্ত মূলত কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেছেন, চলতি বছরে যে তিনবার সুদহার হ্রাস হয়েছে, তার প্রভাব তারা খতিয়ে দেখবেন। আগামী জানুয়ারি মাসে ফেডের পরবর্তী বৈঠকে নীতি সুদহারের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। পাওয়েল আরও বলেছেন, মূল্যস্ফীতি এবং বেকারত্ব একই সঙ্গে মোকাবিলা করা সহজ নয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সুদহার হ্রাসের জন্য আরও আগ্রহী ছিলেন। তিনি মনে করেন, অন্তত ০.৫০ শতাংশ হারে সুদহার কমানো উচিত ছিল। হোয়াইট হাউসে এক গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সুদহার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম হওয়া উচিত।”
নীতি সুদহার হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকগুলোকে যে হারে অর্থ ধার দেয়, সেটিই। ব্যাংকরা এই সুদে ঋণ নেন এবং তার ওপর মুনাফা যোগ করে গ্রাহকদের ঋণ দেয়।
-
সুদহার বাড়লে ব্যাংকের ঋণও ব্যয়বহুল হয়ে যায়, ফলে মানুষের হাতে নগদ কমে এবং বিনিয়োগ কমে।
-
সুদহার কমালে ব্যাংক ঋণ সস্তা হয়, ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনীতিতে তরলতা আসে।
ফেডের সিদ্ধান্তের বাজার প্রভাব
নীতিসুদ কমলে দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের দাম বেড়ে যায়। নতুন সুদের বন্ড কম কুপন দেয়ার কারণে, আগের উচ্চ কুপনযুক্ত বন্ডগুলো বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ বাজারেও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগ বাড়ে এবং ডলারের ওপর চাপ কিছুটা কমে।
ফেডের এই পদক্ষেপ মূলত কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার উদ্দেশ্যে। বাজারের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক, তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বেকারত্বের ভারসাম্য রক্ষা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

