সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। কিন্তু মজুরি সেই সঙ্গে বাড়ছে না। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রকৃত আয় ক্রমেই কমছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা না গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও নিচে যাবে। চাল, ডাল, তেল, সবজি—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। গবেষণা সংস্থা পিপিআরসির জরিপে দেখা গেছে, মধ্যবিত্ত পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় আয়ের চেয়েও বেশি। সংসার চালাতে কেউ সঞ্চয় ভাঙছেন, কেউ ঋণের দিকে ঝুঁকছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। শুধু ডিসেম্বর নয়, টানা ৪৬ মাস ধরে মজুরি হার মূল্যস্ফীতির নিচে রয়েছে। অর্থাৎ আয় বাড়লেও তা মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না। খাতভিত্তিক হিসাবেও কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে মজুরি বাড়লেও তা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে যথেষ্ট নয়।
রাজধানীর এক বাসিন্দা বলেন, ‘যত টাকা আয় করি, তার চেয়ে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আয় বাড়ছে না, অথচ চাল-ডালসহ সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী।’ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আয়-ব্যয়ের বৈষম্য কমাতে মজুরি এবং মূল্যস্ফীতির হার সমন্বয় করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানোও জরুরি।
অর্থনীতিবিদ ড. শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ও আয়-ব্যয়ের ব্যবধানের কারণে মানুষ দেশের, সরকারের এবং নিজের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু মুদ্রানীতি নয়, বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। এছাড়া স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানো প্রয়োজন।

