অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সরকারি গাড়ি কেনার মূল্যসীমা বাড়িয়েছে। এবার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর নতুন নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে যানবাহন কিনতে পারবে।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির কার, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, কোস্টার মিনিবাস (এসি ও নন-এসি) ও ট্রাকের বর্তমান দাম বিবেচনা করে নতুন মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, ২৮ অক্টোবর অর্থ বিভাগ জানিয়েছিল, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি পর্যায়ে সব ধরনের গাড়ি কেনা বন্ধ থাকবে। তবে ওই পরিপত্রে বলা হয়েছিল, যেসব গাড়ি ১০ বছরের বেশি পুরোনো, সেগুলো যথাযথ অনুমতি নিয়ে প্রতিস্থাপন করা যাবে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন মূল্যসীমা মূলত ১০ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রযোজ্য। বাজারে গাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় গাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই বাজারদর বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে মূল্য বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনা সরকারি, সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থার জন্য প্রযোজ্য। নির্ধারিত মূল্যে রেজিস্ট্রেশন ও শুল্ক-কর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সব ধরনের গাড়ির মূল্যসীমা বাড়ানো হয়েছিল। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দফায় কিছু গাড়ির দাম পুনর্বিন্যাস করা হয়। এবার আগের তালিকার বাইরে আরও কয়েকটি গাড়ির ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ শওকত উল্লাহ স্বাক্ষরিত নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য এসি মিনিবাস (অনূর্ধ্ব ৪২০০ সিসি) কেনার সর্বোচ্চ মূল্য ৭৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা করা হয়েছে। বড় নন-এসি বাস (অনূর্ধ্ব ৫৮৮৩ সিসি) কিনতে পারবে সর্বোচ্চ ৫৮ লাখ ২০ হাজার টাকায়, যা আগে ছিল ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। মাইক্রোবাসের মূল্যসীমা ৫২ লাখ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে মূল্যসীমা ৪৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৫৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গাড়ির বরাদ্দ আগের মতোই। ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর জিপ গাড়ির (অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসি) মূল্য ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করা হয়েছিল। এসব গাড়ি মূলত গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ কর্মকর্তাদের জন্য। গ্রেড-৩ বা তার নিচের কর্মকর্তাদের জন্য ৬৫ লাখ টাকা সীমা আগের মতোই।
সিঙ্গেল কেবিন পিকআপের দাম ৩৮ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৫২ লাখ টাকা করা হয়েছে। ডাবল কেবিন পিকআপের মূল্য অপরিবর্তিত আছে। তবে ৬ মার্চ এর আগে মূল্য ৫৬ লাখ টাকা থেকে ৮৬ লাখ টাকা করা হয়েছিল।
৫ টনের ট্রাকের মূল্য ৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪৭ লাখ টাকা, ৩ টনের ট্রাকের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল (অনূর্ধ্ব ১২৫ সিসি) কেনার সর্বোচ্চ মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।

