বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আকুকে ১৫৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে। এই পরিশোধের পর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে ৪৮ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকটি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মাধ্যমে ব্যাপক অর্থ পাচার শুরু হয়। এর প্রভাবে রিজার্ভে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুলাই শেষে রিজার্ভ নেমে আসে ২০ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রাখে। একই সঙ্গে অর্থ পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নেয়। হুন্ডি কার্যক্রম কমে আসায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় ধীরে ধীরে বাড়ে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়া পরিশোধের পরও রিজার্ভ এখন গ্রহণযোগ্য অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ ৭ জানুয়ারি দিন শেষে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের একটি হিসাব রয়েছে। এটি নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ বা ব্যয়যোগ্য নিট রিজার্ভ বর্তমানে ২৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
এই রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার হিসাবে প্রায় সাড়ে ৪ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকা প্রয়োজন। সেই হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
আকু একটি আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আমদানি-রপ্তানির অর্থ পরিশোধ করা হয়। আকুর সদর দপ্তর ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত। এই ব্যবস্থায় সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানি বিল পরিশোধ করে। তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রীলঙ্কার আকু সদস্যপদ বর্তমানে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের ভৌগোলিক সীমারেখাভুক্ত সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য আকুর সদস্যপদ উন্মুক্ত।

