দেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির ক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে। সংস্থাটির নামেও আসছে পরিবর্তন। নতুন নাম হবে বাংলাদেশ মাইক্রোফাইন্যান্স রেগুলেটরি অথরিটি।
কোনো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, গুরুতর অব্যবস্থাপনা বা আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রমাণ মিললে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বাংলাদেশ মাইক্রোফাইন্যান্স রেগুলেটরি অথরিটি অধ্যাদেশের খসড়ায় এসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মূলত মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন, ২০০৬ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে।
খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী লাইসেন্সিং, তদারকি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের ধারণা, এতে একদিকে নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে, অন্যদিকে খাতটির স্বচ্ছতা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ খাতকে কেবল ঋণ কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ মাইক্রোফাইন্যান্স খাতে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমআরএ’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন বলেন, ২০০৬ সালের পর দেশে ক্ষুদ্রঋণ খাত অনেক বড় হয়েছে। এই খাতকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি।সে কারণেই সুশাসন ও ভালো ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে আইনটিকে সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি এবং বিভিন্ন সময়ে এমআরএ’র পরিদর্শনে পাওয়া পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে মাইক্রোফাইন্যান্স ইনস্টিটিউশন বা এমএফআই নামে পরিচিত হবে। আগে যেখানে ‘সনদ’ শব্দটি ব্যবহার করা হতো, সেখানে এখন থেকে ‘লাইসেন্স’ শব্দ ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এমআরএ’র প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। সংস্থাটির প্রধান পদের নাম এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যানের পরিবর্তে এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান করার কথা বলা হয়েছে। এ পদে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্তত অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হতে হবে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে এমআরএ’র আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ নিজস্ব আয় থেকে পরিচালনা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দিতে পারবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ খাতের সক্ষমতা বাড়াতে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা বর্তমান আইনে নেই।
নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও শক্তিশালী করতে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে। খসড়া অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের স্বার্থবিরোধী কাজে জড়ালে বা গুরুতর অব্যবস্থাপনায় লিপ্ত হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে। প্রশাসক প্রথমে ছয় মাস দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে এই মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো যাবে।
খসড়ায় সার্ভিস চার্জের স্পষ্ট সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে আদায় করা যেকোনো সুদ, মুনাফা বা আর্থিক চার্জকে সার্ভিস চার্জ হিসেবে গণ্য করা হবে। পাওনা আদায়ে প্রয়োজনে পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩ প্রয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্বার্থের সংঘাত এড়াতে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই ধারার আওতায় কোনো গ্রাহক, আমানতকারী বা পাওনাদার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

