বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেছেন, বাংলাদেশ ঋণের ফাঁদে পড়ে যেতে পারে।
গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনি বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির গবেষণা ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের দেশি ও বিদেশি ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। বাজেটের বড় অংশ চলে যাচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধে। এই চাপ বেড়ে চলায় বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী বাজেটে সবসময় সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা, পেনশন শীর্ষে থাকত। শিক্ষা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকত। এখন শিক্ষা তৃতীয় অবস্থানে নেমেছে। ঋণের সুদের খরচ দ্বিতীয় স্থানে চলে এসেছে। এটি প্রমাণ করে যে দেশের অর্থনীতি ঋণের ফাঁদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর উদাহরণ দিয়ে বলেন, অনেক দেশ লো ইনকাম থেকে লোয়ার মিডিল ইনকাম ট্র্যাপে পড়ে। ল্যাটিন আমেরিকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এ অঞ্চলের কিছু দেশও একই ফাঁদে পড়েছে।
অনুষ্ঠানে সিপিডি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমেছে। দেশেও চালের ঘাটতি নেই। দাম বেড়ানোর মূল কারণ উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট।
সিপিডি সতর্ক করে, নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকারের জন্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
মূল প্রবন্ধে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এডিপি বাস্তবায়নের হার গত ১০ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি বিনিয়োগও ঐতিহাসিকভাবে কমে গেছে, সাম্প্রতিককালে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। বিদেশি বিনিয়োগও কম। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি খুবই উচ্চ। দেশের ব্যাংকব্যবস্থার উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কাজ নির্বাচিত সরকারকেও চালিয়ে যেতে হবে।

