করদাতাদের বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমিজমাসহ বেশি সম্পদ থাকলে সারচার্জ দিতে হয়। ধনী–গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমানো এবং সমাজে সাম্য আনার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সারচার্জের হার নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে কোন ধরনের সম্পদ থাকলে সারচার্জ আরোপ হবে, তার মানদণ্ডও ঠিক করে দিয়েছে সংস্থাটি। এখন জেনে নেওয়া যাক, কোন ক্ষেত্রে সারচার্জ দিতে হয় এবং এর হার কত।
কোন সম্পদ থাকলে সারচার্জ: মোটাদাগে তিনটি ভিত্তিতে সারচার্জ আরোপ করা হয়।
প্রথমত, কোনো করদাতার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য চার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেলে সারচার্জ দিতে হবে। এর মধ্যে বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, কৃষি ও অকৃষি জমি অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়ত, নিজের নামে একের বেশি মোটরগাড়ি থাকলেও সারচার্জ আরোপ হবে। বাস্তবে অনেকের একাধিক গাড়ি থাকলেও কেউ কেউ নিজের নামে না রেখে প্রতিষ্ঠান বা স্ত্রী–সন্তানের নামে গাড়ি দেখান।
তৃতীয়ত, কোনো করদাতার গৃহসম্পত্তির মোট আয়তন আট হাজার বর্গফুটের বেশি হলে সারচার্জ দিতে হবে। এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এই তিন ধরনের সম্পদের যেকোনো একটি থাকলেই সারচার্জ প্রযোজ্য হবে।
সারচার্জ বসে যেভাবে: করদাতা যে পরিমাণ আয়কর দেবেন, তার ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয়। সম্পদের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারচার্জের হারও বাড়ে। তবে কোনো কারণে করযোগ্য আয় না থাকলে ন্যূনতম সারচার্জ দিতে হয়।
সারচার্জের হার কত:
- নিট সম্পদের মূল্য চার কোটি টাকার কম হলে সারচার্জ দিতে হয় না।
- নিট সম্পদের মূল্য চার কোটি টাকার বেশি কিন্তু ১০ কোটি টাকার কম হলে প্রদেয় করের ওপর ১০ শতাংশ হারে সারচার্জ বসবে।
- নিট সম্পদের মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ২০ কোটি টাকার কম হলে সারচার্জের হার হবে ২০ শতাংশ।
- নিট সম্পদের মূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ৫০ কোটি টাকার কম হলে ৩০ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে।
- আর নিট সম্পদের মূল্য ৫০ কোটি টাকার বেশি হলে প্রদেয় করের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ হবে।
আয়কর নথিতে করদাতাকে বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, জমি ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন সম্পদের অর্জনকালীন বা ক্রয়মূল্য দেখাতে হয়। সারচার্জ নির্ধারণে বাজারমূল্য ধরা হয় না। ফলে দুই বা তিন যুগ আগে কেনা কোনো প্লট বা সম্পদের দাম যদি এক লাখ টাকা দেখানো থাকে, এখনো করনথিতে সেই মূল্যই থাকে। এর কারণে প্রকৃতপক্ষে সম্পদশালী অনেক করদাতা সারচার্জের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

