১০ থেকে ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ অনতিবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন। সংগঠন দুটি হলো বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, সুতা আমদানিতে বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে কাঁচামালের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এর ফলে রপ্তানি প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
‘সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পোশাক শিল্পের জন্য হুমকি: পাট শিল্পের পরে গার্মেন্টস শিল্প বন্ধের পাঁয়তারা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহ সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ সভাপতি রেজওয়ান সেলিম, পরিচালক ফয়সাল সামাদসহ উভয় সংগঠনের নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে সেলিম রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে মন্দাভাব, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জে তৈরি পোশাক শিল্প ইতোমধ্যে চাপের মুখে। এমন পরিস্থিতিতে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের মতো সিদ্ধান্ত শিল্পের জন্য আত্মঘাতী। তিনি বলেন, পোশাক রপ্তানিকারকরাই দেশের স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদিত সুতার একমাত্র ক্রেতা হলেও এই স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পোশাক শিল্পের স্বার্থ পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও পোশাক শিল্পের মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিল্পে অনিশ্চয়তা বাড়ায়।
বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জানান, সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ রপ্তানির ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এরই মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। শুধু ডিসেম্বর মাসেই রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। এই অবস্থায় উচ্চ দামে সুতা কিনতে হলে ক্রেতারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেবেন। এতে প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তিনি বলেন, সরকারের প্রতি সংগঠনগুলোর একান্ত অনুরোধ, সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। বস্ত্রখাতকে সহায়তা দিতে হলে আমদানিতে শুল্ক আরোপ না করে সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।
বিকল্প হিসেবে তিনি গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানির মূল্য যৌক্তিক করা, রপ্তানিমুখী সুতা উৎপাদনকারীদের করপোরেট কর রেয়াত দেওয়া এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। এতে স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম রহমান আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে পোশাক শিল্প।
তিনি বলেন, এই একতরফা সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সেফগার্ড চুক্তির ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের শুল্ক আরোপের আগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পে গুরুতর ক্ষতির প্রমাণ দিতে হয়। কিন্তু এখানে সে ধরনের কোনো তদন্ত করা হয়নি। ফলে সিদ্ধান্তটি নীতিগতভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ।
সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয়কর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

