সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালের সব আদেশ বাতিল করা হয়েছে। অর্থ বিভাগ নতুন একটি সমন্বিত অফিস স্মারক জারি করেছে। এতে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংযুক্ত দফতর ও অধস্তন অফিসগুলোর আর্থিক ক্ষমতা হালনাগাদ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ প্রকাশ করা হয়। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ খায়েরুজ্জামান মজুমদার আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
নতুন আদেশে পরিচালন ও উন্নয়ন উভয় বাজেটের আওতায় আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণের হালনাগাদ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশ জারির সঙ্গে এটি কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এর আগে ১৯৮৩ ও ১৯৮৫ সালে পর্যায়ক্রমে দুটি আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় প্রধান ও প্রকল্প পরিচালকদের আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয়। ২০০০ ও ২০০৪ সালে পুনরায় এ ধরনের আদেশ জারি হয়।
নতুন আদেশে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের আদেশে প্রাতিষ্ঠানিক স্তর বা অর্থনৈতিক কোড অনুযায়ী বিভাজন অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণ মডেল-২০২৬’-এ ৩ থেকে ৮ নম্বর কলামে চারটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তর এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক কোড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এতে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে অধিকতর আর্থিক ক্ষমতা দেওয়ার জন্য ২০১৫ সালের অফিস স্মারকসহ সব সংশ্লিষ্ট আদেশ বাতিল করা হয়েছে। নতুন স্মারকের সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংযুক্ত দফতর ও অধস্তন অফিসগুলোর অর্পিত ক্ষমতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অর্থ বিভাগের বিবেচনার জন্য পাঠাতে হবে এমন বিষয়গুলোর তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সচিব বা ভারপ্রাপ্ত সচিব তাদের মন্ত্রণালয়, সংযুক্ত দফতর ও অধস্তন অফিসগুলোর প্রাপ্তি ও নিয়ন্ত্রিত বাজেট ব্যবহারে প্রধান হিসাব দানকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ে বাজেট বরাদ্দ সঠিক উদ্দেশ্যে ব্যয়, প্রচলিত বিধি অনুসরণ, অতিরিক্ত ব্যয় পরিহার, বাজেট কোড অনুযায়ী ব্যয় সীমাবদ্ধ রাখা, অর্থ বিভাগের অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত মঞ্জুরি আশা না করা, সঠিক কোডে হিসাবভুক্তকরণ, মাসিক হিসাব মিল ও অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা রয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের আর্থিক ক্ষমতার যুক্তিসংগত অংশ সংযুক্ত দপ্তর ও অধস্তন অফিসগুলোতে পুনঃঅর্পণ করতে পারবে। তবে পুনঃঅর্পণ আদেশে সব সরকারি অফিসে অভিন্নতা বজায় রাখতে সংযুক্ত ছকে প্রদর্শিত নমুনা অনুসরণ করতে হবে। পুনঃঅর্পণ আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পূর্ণ ক্ষমতাবান হিসেবে উল্লেখ করতে হবে এবং প্রযোজ্য বিধি ও সরকারি আদেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
এছাড়া যেসব কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে বিশেষ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তারা তা প্রয়োগ চালিয়ে যাবেন। তবে সংযুক্ত তালিকায় প্রদর্শিত কোনও আইটেমের ক্ষমতা যদি পূর্বের বিশেষ আদেশের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে নতুন তালিকায় প্রদর্শিত উচ্চতর ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে।
২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণ সংক্রান্ত আদেশ জারি হলেও পরবর্তীতে প্রশাসনিক কাঠামো ও সরকারি কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। বিভিন্ন সংশোধনী জারি হলেও কোনো সমন্বিত আদেশ প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ সংশোধন এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন হওয়ায় আর্থিক ক্ষমতা আরও হালনাগাদ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

