চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণে গতি এসেছে। এ সময়ে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বিতরণ বেড়েছে চার হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধি ২৯ ভাগ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পুরো অর্থবছরে কৃষি খাতে ৩৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের কথা। এর মধ্যে ছয় মাসেই বিতরণ হয়েছে ৫৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর নিট ঋণ বিতরণের আড়াই শতাংশ কৃষি খাতে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই হার বাড়ানোর চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে কৃষি খাতে ঋণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৬ শতাংশ এ খাতে নিয়োজিত। প্রতিবছর গড়ে ৫ শতাংশ হারে ঋণ বাড়লেও কৃষি খাত প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ঋণ বিতরণের পাশাপাশি আদায়েও উন্নতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কৃষি খাত থেকে ২১ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা ঋণ আদায় হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। এবার আদায় বেড়েছে দুই হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। সব মিলিয়ে গত ডিসেম্বর শেষে কৃষি খাতে মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর নিট ঋণের মাত্র আড়াই শতাংশ কৃষিতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান চাহিদার তুলনায় কম। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু ঝুঁকি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি খাতে আরও বেশি অর্থায়ন প্রয়োজন।
ঋণ সীমিত থাকায় উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, বীজ, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য কমানোর উদ্যোগও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে দলগতভাবে প্রকাশ্য ঋণ বিতরণ জোরদার করা হয়েছে। ব্যাংকের শাখার পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং, সাব-ব্রাঞ্চ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, এরিয়া অ্যাপ্রোচ পদ্ধতি এবং প্রয়োজনে এমএফআই-লিংকেজ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিঋণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

