হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শিল্প খাতে মন্দার কারণে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৪ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে এবং তারা এখন বেকার।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি জানান, প্রতিবছর দেশে অন্তত ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। কিন্তু শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তাদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে দেশে বেকারত্বের হার দ্রুত বাড়ছে।
এ কে আজাদ আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী গত অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.২২ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরে এটি কমে ৩.৯৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তার মতে, প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতি অর্থনীতির ভেতরে বাড়তে থাকা চাপেরই প্রতিফলন।
তিনি ব্যাংকিং খাতের অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দেশে খেলাপি বা শ্রেণীকৃত ঋণের হার বর্তমানে ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে। যদিও বাস্তবে এই হার আরও বেশি বলে তিনি মনে করেন।
বেসরকারি খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে এ কে আজাদ জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের ওপর। তিনি বলেন, “আমরা মাত্র ৬ শতাংশ হারে ঋণ পাচ্ছি, যা শিল্প খাতের জন্য যথেষ্ট নয়।”
এ কে আজাদ আরও উল্লেখ করেন, দেশে শিল্পায়নের গতি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ব্যবসা ও বাণিজ্যের প্রয়োজনেই এখন আর নতুন শিল্প গড়ে উঠছে না। গত বছর দেশে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি কমেছিল, আর চলতি বছর তা আগের বছরের তুলনায় আরও ২৬ শতাংশ কমেছে। এটি শিল্প খাতের দুরবস্থার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

