জুলাই থেকে নভেম্বর- চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাস শেষে বিদেশি ঋণের অর্থছাড়ে প্রবৃদ্ধি থাকলেও এক মাসের ব্যবধানে তা ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে।
ডিসেম্বর শেষে দেখা যাচ্ছে, গেল ৬ মাসে বিদেশি ঋণে যে পরিমাণ অর্থছাড় হয়েছে, তা গত বছরের ৬ মাসের চেয়ে ২৯ শতাংশ কম।
এ সময়ে মোট ২৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদানের অর্থ ছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলো। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৫৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার।
এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদানের অর্থছাড় কমেছে প্রায় ২৯ শতাংশ।
বুধবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদানের অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি।
শেষ পাঁচ মাসে অর্থছাড় হয় ১৯৫ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৫৪ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।
রাজনৈতিক ডামাঢোলের মধ্যে শুরু হওয়া গত অর্থবছরের শুরুতে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে যে নেতিবাচক ধারা ছিল, তার রেশ দেখা যায় এ সূচকেও।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও কমেছে।
প্রথম ছয় মাসে প্রতিশ্রুতি মিলেছে ১৯৯ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। সেই হিসেবে প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ কমেছে ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।
ইআরডির প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর পাওনার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার পরিশোধ করেছে ২১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
আগের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আসল ও সুদ মিলিয়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ১৯৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার। সে হিসাবে ঋণ শোধ বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

