রাজধানীর হাজারীবাগের গৃহিণী সালমা আক্তার গত বছর সোনালী ব্যাংকের ট্যানারি মোড় শাখা থেকে পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন। প্রতি মাসে তিনি ৪৫৬০ টাকা মুনাফা পাচ্ছিলেন। কিন্তু জানুয়ারি মাসে মুনাফা হঠাৎ কমে দাঁড়ায় ৪৩২১ টাকায়। মাত্র এক মাসে ২৩৯ টাকা কমে যাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করেন।
ব্যাংক থেকে জানানো হয়, মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কর দ্বিগুণ হওয়ায় সালমা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মতো আরও অনেক গ্রাহক হঠাৎ করে কম মুনাফার শিকার হচ্ছেন।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন ও জনসংযোগ) মো. রেজানুর রহমান বলেন, আগে পাঁচ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগে উৎসে কর ছিল ৫ শতাংশ, তার বেশি হলে ১০ শতাংশ। কিন্তু ২০২৩ সালের সর্বশেষ আয়কর আইনে সব সঞ্চয়পত্রে ১০ শতাংশ উৎসে কর আরোপ করা হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছিল। জানুয়ারি থেকে সেই ছাড় প্রত্যাহার করায় পাঁচ লাখ টাকার কম বিনিয়োগকারী গ্রাহকরা কম মুনাফা পাচ্ছেন।
প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে রেজানুর রহমান জানান, বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনও প্রজ্ঞাপন হয়নি। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এ বিষয়ে তিনি এখনও অবগত নন। আগামী রোববার জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার কমরুল ইসলাম তাঁর স্ত্রীর নামে পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। জনতা ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে ইস্যুকৃত এই সঞ্চয়পত্রের মুনাফাও হঠাৎ কমে গেছে। তিনি বলেন, “কোনো প্রজ্ঞাপন বা ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ কর বাড়ানো ঠিক হয়নি। আগের হারে উৎসে কর কার্যকর করে কমে যাওয়া মুনাফা ফেরত দিতে হবে।”
সঞ্চয়পত্র মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম। ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য কম উৎসে কর থাকাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণোদনা ছিল। নতুন পরিবর্তনের ফলে সেই সুবিধা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
হাজারীবাগের সালমা আক্তার আরও বলেন, “ছোট বিনিয়োগকারীদের ওপর নীরবে কর বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কোনো ঘোষণা নেই। কেন চুপিসারে এই সিদ্ধান্ত?”
জিগাতলার পোস্ট অফিস এলাকার আয়েশা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দুই লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১৮২৪ টাকা মুনাফা পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তা কমে এসেছে ১৭২৮ টাকায়। তিনি সংসারের দৈনন্দিন খরচ মুনাফার ওপর নির্ভর করেন।
সরকার ৩১ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে চার দিনের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। ফলে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুনাফার হার চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেও বহাল রয়েছে।
বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য দুটি ধাপ রাখা হয়েছে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচে বিনিয়োগকারী প্রথম ধাপে থাকছেন, এর বেশি বিনিয়োগকারী দ্বিতীয় ধাপে। স্কিমভেদে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সর্বোচ্চ ১১.৮২ শতাংশ থেকে ১১.৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।

