Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice Wed, Feb 11, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি অর্জন আদৌ সম্ভব কি না
    অর্থনীতি

    ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি অর্জন আদৌ সম্ভব কি না

    মনিরুজ্জামানFebruary 10, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এখন প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের আশেপাশে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের অর্থনীতি সামলানোর দায়িত্ব পেলে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষ প্রকাশ করেছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল—বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।

    বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছে, তারা ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে আধুনিক উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করতে চায়। দলটি বলেছে, অর্থনীতির অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙে জনগণের সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, মধ্যবিত্ত সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাদের মূল মনোযোগ থাকবে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে!

    অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা দিয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দুই ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে এবং মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১০ হাজার ডলারে। তারা আরও জানিয়েছে, দেশের অবস্থান বিশ্বের অর্থনীতির ৩৫তম স্থান থেকে ২০তম স্থানে উন্নীত হবে।

    তবে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, দেশীয় অর্থনীতির বর্তমান ভঙ্গুর অবকাঠামো, বৈদেশিক বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা, বৈষম্যপূর্ণ সম্পদ বিতরণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবকে উপেক্ষা করে এই লক্ষ্যগুলো শুধুই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে এই ধরনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো মূলত ভোটপ্রার্থীকে জনপ্রিয় করে তুলতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে যারা অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দিকে তাকাচ্ছেন, তারা বলেন, শুধুমাত্র নীতিমালা ঘোষণা যথেষ্ট নয়; কার্যকর বাস্তবায়ন, সরকারি অঙ্গসংগঠনের সক্ষমতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিশ্চিত করাটাই মূল চ্যালেঞ্জ।

    বর্তমানে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন’কে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। তবে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোকে অগ্রাহ্য করে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো কতটা পূর্ণতা পাবে, তা সময়ই বলে দেবে।

    অর্থনীতিবিদরা এই পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিধান্বিত। কেউ মনে করছেন, তাত্ত্বিকভাবে লক্ষ্যগুলো অসম্ভব নয় এবং অনেকটাই বাস্তবায়নযোগ্য। তবে অন্যরা সতর্ক করে বলছেন, ইশতেহারের কিছু ঘোষণা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন।

    বিএনপি তাদের ইশতেহারে সাতটি ধাপে অর্থনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপন করেছে। এ ধাপগুলো হলো—অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন, বিনিয়োগ ও আর্থিক খাত সংস্কার, শিল্প খাত ও সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়ন, সেবা খাত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ–জ্বালানি ও পরিবহন খাত উন্নয়ন, আইসিটি, এবং রাজস্ব আয় ও ব্যয় ব্যবস্থার সংস্কার।

    অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের ক্ষেত্রে বিএনপি প্রত্যেক নাগরিকের উৎপাদনশীল শক্তির ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলেছে। দলটি বলেছে, তারা অর্থনীতির অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙে জনগণের সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে, মধ্যবিত্ত সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠনে মনোনিবেশ করবে। এ ছাড়া, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ গঠন, সিঙ্গেল ক্লিয়ারেন্স ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

    বিনিয়োগ ও আর্থিক খাত সংস্কারের ক্ষেত্রে বিএনপি ঘোষণা করেছে, বিনিয়োগের হার জিডিপির ২.৫ শতাংশে উন্নীত হবে। তারা নীতির আকস্মিক পরিবর্তন রোধ, ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সহজীকরণ, হয়রানিমুক্ত মুনাফা প্রত্যাবাসন, ভ্যাট ও কাস্টমস রিফান্ড ডিজিটালাইজেশন, এবং যৌথ অংশীদারিত্বে কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের গঠন করবে। এছাড়া, ইনভেস্টর প্রোটেকশন রেগুলেশন প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    শিল্প খাতের জন্য দলটি বলেছে, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। বেসরকারি খাতের উন্নয়নে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, শিল্পপার্কের সক্ষমতা বাড়ানো এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ধারা অব্যাহত রেখে বিএনপি শিল্প খাত ও সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসারে উদ্যোগ নেবে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিএনপির এই পরিকল্পনার অনেক অংশ বাস্তবায়নযোগ্য। বিশেষ করে বিনিয়োগ ও শিল্প খাতের সংস্কার এবং অর্থনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। তবে লক্ষ্যগুলো অর্জনের সময়সীমা অত্যন্ত কঠোর এবং বাস্তবায়নের পথে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সরকারি প্রশাসনিক সক্ষমতা, বৈদেশিক বিনিয়োগের আকর্ষণ এবং আর্থিক নীতি সমন্বয়—সব মিলিয়ে এ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    জামায়তে ইসলামী ঘোষণা দিয়েছে, জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত হবে। তারা বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে, ইনভেস্টমেন্ট বন্ড মার্কেট গড়ে তুলবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জিডিপি ১৪ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    রাজস্ব আয় বাড়িয়ে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো, সরকারি ব্যয় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করা, করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা, বাজেটের ঘাটতি ৫ শতাংশের বেশি না হওয়া, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং করপোরেট ট্যাক্স ধাপে ধাপে ২০ শতাংশে নামানো হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, ঋণখেলাপি সহনীয় পর্যায়ে আনা, আর্থিক খাত সংস্কার কমিশন গঠন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং মুদ্রা পাচার আইনসহ প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা হবে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দুই দলের পরিকল্পনার অনেক অংশ বাস্তবায়নযোগ্য হলেও লক্ষ্যগুলো অর্জনের সময়সীমা কঠিন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ নিশ্চিত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনী ইশতেহারে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো ভোটপ্রার্থীকে জনপ্রিয় করতে সহায়তা করতে পারে, তবে বাস্তবায়নেই মূল পরীক্ষা।

    বিএনপি ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কারের জন্য সুদহার যৌক্তিককরণ, অবসায়িত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরত, অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। তারা ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান এবং বীমা খাত উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছে।

    পুঁজিবাজার সংস্কারে দলটি সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত, পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠন, শেয়ারবাজারে কারসাজি বন্ধ এবং শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। করপোরেট ও সুকুক বন্ড প্রবর্তন, প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালু, শেয়ারবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করাও লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।

    বাণিজ্য সহজীকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে বিএনপি ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সম্পাদন, প্রতিযোগিতা সক্ষম বাণিজ্য গড়ে তোলা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্তি এবং লজিস্টিক হাব প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    অন্যদিকে জামায়াত শেয়ারবাজারে অনিয়ম ও কারসাজি দূর করার, আস্থাহীনতা কমানোর এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধির জন্য তারা অ্যাডভান্সড টেক্সটাইল, চামড়া, পাট, ফ্রিল্যান্সিংসহ আইটি সার্ভিস ও এগ্রো প্রসেসিং খাত আধুনিকায়ন করবে। বৈদেশিক বিনিয়োগে বাধা দূর, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ও কোম্পানিকে লাভজনক করা এবং অলাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্থলে প্রয়োজনীয় নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।

    জামায়াত রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, সরকারি ক্রয় ও টেন্ডারে স্মার্ট কন্ট্রাক্ট ভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু, কাস্টমস ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন, বেকার জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, এমএমইকে অগ্রাধিকার এবং শ্রমিকদের জন্য ভাতা ও কর্মবীমা প্রদানের কথাও বলেছে। এছাড়া, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নামে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    শিল্প ও সৃজনশীল অর্থনীতি: বিএনপি নতুন শিল্পায়ন কৌশল হাতে নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করতে তারা বিভিন্ন প্রণোদনা, বন্ধ শিল্প পুনরায় চালু করা, রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পকে বন্ডেড সুবিধা দেওয়া ঘোষণা করেছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, ন্যাশনাল ট্রেড কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল ও কৌশলগত টেক্সটাইল ফান্ড গঠন এবং ন্যাশনাল গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি প্রণয়নের কথাও বলা হয়েছে। কারু ও হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে নারী নেতৃত্বাধীন উদ্যোক্তা, দেশি ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে সাপোর্ট প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সেবা খাত: ব্যাংকিং, আইসিটি, পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবা খাত উন্নয়নে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সব সেবার জন্য সিঙ্গেল ডিজিট উইন্ডো চালু এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপনে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন: দলটি উৎপাদন ও স্মার্ট গ্রিড সক্ষমতা বাড়ানো, ক্যাপাসিটি চার্জ ও চুক্তি সংস্কার, সর্বনিম্ন ব্যয়ভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জ্বালানিতে আমদানি নির্ভরতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি ব্যবহার, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং রূপপুর প্রকল্প পর্যালোচনা করা হবে।

    যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু ও গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, স্মার্ট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নতুন সড়ক আইন, নদী তলদেশে টানেল নির্মাণ, রেললাইন ডাবল ট্র্যাক এবং উচ্চগতির রেল চালু করা হবে। শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ভাড়ায় বিশেষ ছাড় কার্যকর হবে।

    সুনীল অর্থনীতি ও সমুদ্র সম্পদ: দলটি টেকসই সমুদ্র অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা ও লুণ্ঠন রোধ, তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে অংশীদারিত্বের মতো পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
    জামায়তের পরিকল্পনা

    জামায়তে ইসলামী সুনীল অর্থনীতির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী সমুদ্র অর্থনীতি গঠনের পরিকল্পনা করেছে। তারা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় জাকাত সংগ্রহ ও সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সফল ইসলামী ব্যাংক ও বিমা খাতের বিকাশে সহায়তা এবং কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপনের মাধ্যমে আইনি জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    জামায়তে ইসলামী সুনীল অর্থনীতির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী সমুদ্র অর্থনীতি গঠন করবে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণ, পিডিবির সক্ষমতা বৃদ্ধি, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর, কয়লার ব্যবহার কমানো, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কুইক রেন্টালসহ অন্যান্য দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করার মাধ্যমে জ্বালানির অপচয় রোধ করা হবে!

    নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম বলেন, “জামায়াত ও বিএনপির ইশতেহারে অর্থনীতি নিয়ে প্রতিশ্রুতি এসেছে—অনেকটাই বাস্তবায়নযোগ্য; কিন্তু কিছু বিষয় অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবায়ন কঠিন। দেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রয়োজন।

    সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “দুটি দল যে সময়সীমা উল্লেখ করেছে সেখানে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে প্রায় ১০ শতাংশ গ্রোথ রেট প্রয়োজন। বাস্তবতায় এটি প্রায় অসম্ভব। যারাই দায়িত্ব নেবেন, তাদের জন্য অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কঠিন হবে। আর্থিক অসক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা ও বহুমুখী চাপের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণই গ্রহণযোগ্য সমাধান।

    ড. তৌফিকুল আরও বলেন, “অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা নেই এবং অনেকের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। অতীতের সংকটের একটি বড় কারণ ছিল গোষ্ঠী স্বার্থ। নীতির ক্ষেত্রে গোষ্ঠী স্বার্থকে পরিহার করে রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে গিয়ে সংস্কার করা গেলে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব।

    বিএনপি প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থায় গুরুত্ব দিয়েছে। জামায়ত শক্তি খাতের স্থিতিশীলতা, সমুদ্র অর্থনীতি এবং রপ্তানি ও শ্রমিক সুরক্ষায় জোর দিয়েছে। দুই দলের উদ্যোগই অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও রপ্তানি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে। তবে সময়সীমা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    বিশ্ববাণিজ্যে উদ্ভূত নতুন ঝুঁকি ও প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান

    February 10, 2026
    বাংলাদেশ

    সহিংসতামুক্ত ভোট: পুলিশের প্রস্তুতি ও মানসিকতা নিয়ে শঙ্কা

    February 10, 2026
    অর্থনীতি

    অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্সের শীর্ষে থাকা বিভাগ

    February 10, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইরাকে নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ, শাস্তির ভয় সবার মনে

    আন্তর্জাতিক August 4, 2025

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক October 30, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত January 13, 2025

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি October 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.