দেশের জ্বালানি খাতে বড় এক বাস্তবতা সামনে এসেছে। বাড়ছে চাহিদা, কিন্তু সে তুলনায় বাড়েনি পরিশোধন সক্ষমতা। ফলে আমদানিনির্ভরতা এখন অর্থনীতির জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে নতুন রিফাইনারি স্থাপন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল দেশে পরিশোধন করা হয়। এই পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি। এটি দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার।
অর্থাৎ মোট চাহিদার বড় অংশই দেশীয় সক্ষমতার বাইরে রয়ে গেছে। বাকি প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন পরিশোধিত তেল সরাসরি আমদানি করতে হচ্ছে। পরিশোধিত জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক বেশি দামে কিনতে হয়। ফলে আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতার ওপর। অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা গেলে ব্যয় তুলনামূলক কম থাকে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্থিতিশীল হয়। কিন্তু সীমিত অবকাঠামোর কারণে বাংলাদেশ এই সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারছে না।
এই বাস্তবতায় বার্ষিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন পরিশোধন সক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন রিফাইনারি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, নতুন রিফাইনারি চালু হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আসবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি খাতের এই উদ্যোগ শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তাই প্রস্তাবিত রিফাইনারি বাস্তবায়ন কত দ্রুত এগোয়, তা এখন নজরে সংশ্লিষ্ট মহলের।

